বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা তানজিদুল হক (তানজিদ মঞ্জু)। মঞ্জুর নেতৃত্বে রাতভর নির্যাতনের শিকার মুকুল আহমেদকেও এ মামলায় ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। বাইক চুরি ও পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এসব শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এই নেতা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত আমলি বিচার আদালতে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ২৬ আগস্ট রাত ১টার দিকে বরিশাল মেরিন একাডেমির সম্মুখে নভোথিয়েটার-সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকায় মঞ্জুর বাইক চুরি করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন তানজিদ মঞ্জু। মামলাটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে করা হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিঠুকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মামলার ৭ নম্বর আসামি। এছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বাবুল মিয়া, রাকিন, মিজানুর রহমান, প্রিতম, আতিক আবদুল্লাহ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসেন স্বজনসহ মোট ২৩ শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা তানজিদ মঞ্জুকে আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি বাইক রেখে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তার ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল, এই মামলা তা প্রমাণ করে। কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এমন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “আমি শুনেছি এমন একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা তানজিদুল হকের (তানজিদ মঞ্জু) বিরুদ্ধে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদের ওপর আবাসিক হলে রাতভর নির্যাতন চালানোর দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব বাতিল করে। এছাড়াও চাঁদাবাজি, লুটপাট ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে। এসব মামলায় এর আগে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

