সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দেখা দেয় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। কখনো তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে জনপদের ওপর, কখনো বাতাসের সঙ্গে ভেসে চলে যায় আশপাশের গ্রামগুলোতে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও থামে না ধোঁয়া নির্গমন। শিল্পকারখানার চিমনি থেকে বেরিয়ে আসা এই কালো ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের নিঃশ্বাসে। ঘরের জানালা বন্ধ রেখেও রেহাই মিলছে না। উঠানে শুকাতে দেওয়া কাপড়ে জমছে কালো ধুলা, গাছের পাতায় পড়ছে ময়লার আস্তরণ। বাতাসে ভেসে বেড়ানো ধোঁয়া আর পোড়া জ্বালানির গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
আড়াইহাজার উপজেলায় শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। রাইস মিল, ডাইং, ফিড মিলসহ বয়লারনির্ভর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও গাছপালার ওপর। গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী, দাইরাদী, জালাকান্দি, দুপ্তারাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কারখানায় ধোঁয়া পরিশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কোথাও চিমনির উচ্চতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ধোঁয়া উঁচুতে ছড়িয়ে পড়ার বদলে কাছাকাছি এলাকার বাতাসে মিশে যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা।
দাইরাদী এলাকার গৃহিণী নাসিমা বেগমের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তার ভাষ্য, ধোঁয়ার কারণে বাড়ির জানালা খুলে রাখতে স্বস্তি পান না। চোখ জ্বালা করে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হয় বলে জানান তিনি। ছোট শিশুদের নিয়ে তার উদ্বেগ বেশি।
রামচন্দ্রদী এলাকার কৃষক শাহ আলমের আশঙ্কা, কারখানার ধোঁয়া ও ধুলা কৃষিজমির ওপর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, ‘ধানের পাতা ও সবজির গায়ে কালো আস্তরণ দেখা যায়। ফলনও আগের মতো হচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে।’
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, ‘শিল্পকারখানাগুলোকে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধিমালা মেনে পরিচালিত হতে হবে। কোথাও নিয়মবহির্ভূতভাবে কালো ধোঁয়া নির্গত হলে বা চিমনির উচ্চতা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

