ছবি তোলা আর আশ্বাসেই চলে এলাকাবাসীর দিন

রাণীশংকৈলে পুরোনো সেতু যেন মরণফাঁদ!

রাণীশংকৈলে পুরোনো সেতু যেন মরণফাঁদ!
ছবি: আমার দেশ

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের প্রধান সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চরম জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুটির এক পাশের বিশাল অংশ বা ঢালাই ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিশাল গর্ত। বিপজ্জনক গর্তের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসে বারবার ভাঙা রাস্তার ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আশ্বাস প্রদান ছাড়া বাস্তবে কোনো উন্নয়ন বা সংস্কারকাজের সূচনাও হয়নি। স্থানীয়রা দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ ও কাপড়ের সংকেত দিয়েছে, মানুষ যেন সহজে বুঝতে পারে এটি বিপজ্জনক স্থান।

বিজ্ঞাপন

২২ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একপাশের বড় একটি অংশ ধসে নিচে ভেঙে পড়েছে, মূল কাঠামোর বিপজ্জনক লোহার রডগুলো বাঁকা হয়ে বের হয়ে আছে। রাতের অন্ধকারে কিংবা অসাবধানতাবশত যান চলাচলের সময় যেকোনো সময় গাড়ি বা পথচারী এই গর্তে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে দুর্ঘটনা এড়াতে গর্তের মাঝে বাঁশ পুঁতে তাতে লাল ও পুরাতন কাপড়ের টুকরো বেঁধে দিয়ে সাময়িক সতর্কসংকেত টাঙিয়ে রেখেছেন। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

এলাকার হাজারো মানুষ এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও সাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ পথচারীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

ইউপি সদস্য আকিল হোসেন জানান, সড়কটি নির্মাণ হওয়া জরুরি। সরু হয়ে যাওয়ায় একপাশের গাড়ি অপর পাশকে জায়গা দিতে গেলে যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জনৈক এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানান, আজ প্রায় সাত মাস ধরে দেখছি লোকজন আসে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি তোলে আর বলে দ্রুত কাজ হবে। কিন্তু ছবি তোলাই সার, ৭ মাসে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্ষা ও অন্যান্য সময়ে এই ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রশাসন কি কোনো বড় প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার পর জেগে উঠবে? অনতিবিলম্বে রাস্তাটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, ‘ব্রিজ তৈরির জন্য ব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, ঠিকাদার নিয়োগ হলেই কাজ শুরু হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন