কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরের গরুর হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ বাড়লেও এখনও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না। নগরের ১৩টি হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে বড় গরুর বিক্রি কিছুটা ধীর গতিতে চলছে।
সাগরিকা গরুর হাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা কিছুটা বাড়লেও বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ঐতিহ্যবাহী এই হাটে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের জেলা থেকেও গরু কিনতে আসছেন ক্রেতারা। এটি নগরের সবচেয়ে গরুর বড় বাজার।
পতেঙ্গা আউটার রিং রোড এলাকায় আলমগীর সাহেবের বালুর মাঠ গরুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে ছোট ও মাঝারি গরুর বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। বড় গরু বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায়। হাটটিতে প্রায় দুই হাজারের বেশি গরু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
হাটের ইজারাদার মো. আলমগীর বলেন, আমাদের হাটে গরুর হাসিল ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) থেকে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। যথেষ্ট গরু রয়েছে। ক্রেতারাও ন্যায্যমূল্যে গরু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাঙামাটি থেকে ১২০টি গরু নিয়ে এসেছেন শহীদ হোসেন। তিনি জানান, গত দুই দিনে ৫০টি গরু বিক্রি করেছেন, যার দাম ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। তবে আনা ২৬টি বড় গরুর মধ্যে মাত্র একটি বিক্রি হয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায়। তার মতে, বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
যশোর ঝিকর গাছা থেকে গরু নিয়ে আসা আকমল হোসেন বলেন, তিনদিন আগে ১২০টি গরু এনেছিলাম। এরমধ্যে আজ পর্যন্ত ২০টি বিক্রি হয়েছে, এর ১৫টিই আজ (মঙ্গলবার) বিক্রি হয়েছে।
তিনটি হাটের বেশ কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই দিনে বেচাকেনা তেমন হয়নি। মঙ্গলবার দুপুর থেকে কিছুটা গতি এসেছে বেচাকেনায়। তবে বিক্রেতাদের আশঙ্কা, বড় গরুর বিক্রি হয়তো গত বছরের মতো হবে না।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নগরে মোট ১৩টি হাটের মধ্যে স্থায়ী তিনটি হাট সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড়ে। বাকি ১০টি অস্থায়ী হাট বসেছে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। তার মধ্যে— নূর নগর হাউজিং এস্টেট মাঠ, সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ, সিডিএ বালুর মাঠ, মুনিরনগর রিংরোডসংলগ্ন খালি জায়গা, গলাচিপাপাড়া মাঠ, আলমগীর সাহেবের মাঠ, চেয়ারম্যান মাঠ, বড়পোল খালপাড়, সল্টগোলা রেলক্রসিং মাঠ এবং রেজাউল আমিন মাঠ।
অপরদিকে নগরের বন্দর এলাকার ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মশিউর রহমান বলেন, সোমবার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সড়কে কিছুটা যানজট দেখা দিয়েছিল। পরে রাত সাড়ে ১০টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আউটার রিং রোডের দুইটি গরুর হাটে মঙ্গলবার সকাল থেকে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। সকালে কমিশনারও হাট তদারকি করতে এসেছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

