ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনের পীরগাছা উপজেলায় শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা প্রকাশ করায় ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন এলাকার মৃত মজিব উদ্দিনের ছেলে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থক বলে জানা গেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ইদ্রিস আলীর বাড়ির উঠানে কয়েকজন বিএনপির কর্মী গিয়ে তার ভোটের সিদ্ধান্ত জানতে চান। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেন। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং এলাকায় থাকতে হলে বিএনপির পক্ষে ভোট দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।
তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি চারজনের নাম উল্লেখ করে পীরগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্নদানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান।
ইদ্রিস আলী বলেন, “আমি শুধু আমার ভোটের অধিকার প্রয়োগের কথা বলেছি। এজন্য আমাকে মারধর করা হয়েছে। এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ব্যাহত করতে পারে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, মামলা গ্রহণ করে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

