নগদ টাকার সংকটে জমেনি রাজারহাট চামড়ার মোকাম

নগদ টাকার সংকটে জমেনি রাজারহাট চামড়ার মোকাম

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে কোরবানি ঈদের পর দ্বিতীয় হাটও প্রত্যাশা অনুযায়ী জমেনি। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক বন্ধ থাকায় বাজারে নগদ টাকার সংকট রয়েছে। এই কারণে পাইকাররা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পশুর চামড়া কিনতে পারছেন না।

রোববার ব্যাংক খুললে তারল্য সংকট কেটে (নগদ টাকা) যাবে। ফলে আগামী মঙ্গলবারের হাটে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন

কোরবানি ঈদের পর গত শনিবার ছিল রাজারহাটে দ্বিতীয় হাট। গত মঙ্গলবার প্রথম হাট ছিল একেবারেই নিরুত্তাপ। হতাশা প্রকাশ করছিলেন পশুর চামড়া বিক্রি করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। আজকের হাটে সেই হা-হুতাশ অনেকটাই কমেছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মঙ্গলবারের প্রথম হাটে এখানে ৪-৫ হাজারের মতো চামড়া কেনাবেচা হয়। দ্বিতীয় হাটে বিকিকিনি বেড়ে ২০-২৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যদিও কোরবানি ঈদের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাটটিতে সাধারণত একদিনে ৪০-৫০ হাজার পিস চামড়া বিক্রি হয়। সেই হিসাবে এবার চামড়া বিক্রি অনেক কম। এর পেছনে এবার পশু কোরবানি কম হওয়ার কারণও থাকতে পারে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

অন্যদিকে, প্রথম হাটে চামড়ার দাম অনাকাঙ্ক্ষি মাত্রায় নিম্নগামী হওয়ায় হতাশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা। দ্বিতীয় হাটে এসে চামড়ার দাম খানিকটা বেড়েছে। এতে বিক্রেতাদের হা-পিত্যেশ কিছু কমলেও তাদের প্রত্যাশা, বাজার আরো চড়া হোক। পাইকারদের মত, বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়লে চামড়ার দাম আরো বাড়তে পারে।

খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে আসা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী সাধনকুমার দাস শনিবার রাজারহাটে ২০০ পিস গরুর চামড়া এনেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৫০টি চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন। প্রতিটির দাম পেয়েছেন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বাকি চামড়া দাম বাড়ার আশায় নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, মান অনুযায়ী এই চামড়ার দাম আরো বেশি হওয়া উচিত।

তরিকুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী শনিবারের হাটে ৯০০ থেকে এক হাজার ১০০০ টাকায় কিছু চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন। তিনি জানান, এই চামড়াগুলো বড় ও উন্নতমানের। এমন চামড়ার সংখ্যা কম। সংগ্রহে আরো কিছু এমন উন্নতমানের চামড়া আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী হাটে দাম বাড়লে বাকি চামড়াগুলো বিক্রি করবেন।

রাজারহাটের পুরোনো ব্যবসায়ী হাসিব চৌধুরীর অভিমত, কোরবানি ঈদের পর মঙ্গলবারের হাটে চার থেকে পাঁচ হাজার এবং শনিবারের হাটে ২০ থেকে ২৫ হাজার চামড়া উঠেছে। চামড়ার আমদানি ও ক্রেতা কম। সপ্তাহজুড়ে ব্যাংক বন্ধ থাকায় এমনটি ঘটছে বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী। বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়লে ঢাকার বড় ব্যবসায়ী ও ট্যানারির প্রতিনিধিরা রাজারহাট মোকামে আসবেন। তখন বাজারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। চামড়ার মান অনুযায়ী দাম ৫০০ থেকে ১১০০ টাকা। সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে খরচ এর চেয়ে বেশি। ছাগলের চামড়ার অবস্থা খুবই করুণ। একটি ছাগলের চামড়ার পেছনে ৪০-৫০ টাকা খরচ হয়। অথচ হাটে তা বিক্রি হচ্ছে গড়ে মাত্র ১০-২০ টাকায়। তবে বড় ও ভালো মানের ছাগলের চামড়া বাজারে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হতেও দেখা যায়।

কথা হয় রাজারহাট মোকামের ইজারাদার খুরশিদ আলম বাবুর সঙ্গে। তার ভাষ্য, ব্যাংক বন্ধ থাকায় হাটে নগদ টাকার প্রবাহ সীমিত। ফলে ক্রেতা কম। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া হাটে না এনে নিজ নিজ হেফাজতে রাখছেন। তবে রোববার ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলে আগামী মঙ্গলবারের হাটে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে চামড়া দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব না। আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চামড়া সংরক্ষণের কার্যত কোনো সুযোগই নেই।

প্রসঙ্গত, যশোর শহরতলীর রাজারহাটে বসে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট। এটি দেশের দ্বিতীয় প্রধান চামড়ার হাট হিসেবে স্বীকৃত। খুলনা বিভাগের দশ জেলা ছাড়াও রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার চামড়া বেচাকেনা হয় এই হাটে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন