চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে একমাত্র অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে হাটটির ইজারা প্রদান করে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হাট পরিচালনার ব্যবস্থা করে। তবে এ পশুর হাট বন্ধে চট্টগ্রাম সিটির সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী আদালতে রিট আবেদন করেছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, সাগরিকা পশুর হাট দীর্ঘদিনের একটি বড় পশুর বাজার এবং এটি থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়ে থাকে। পাশেই নতুন অস্থায়ী হাট চালু হলে বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি করা হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, সলিমপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষদের পশু কেনাবেচার জন্য নগরীতে যেতে হলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। এতে সাধারণ মানুষকে বাড়তি ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি অনুমোদিত হাট থাকায় সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র খামারিরা সহজেই পশু কেনাবেচা করতে পারছেন।
অস্থায়ী হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বৈধভাবে হাটের ইজারা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক খামারিদের কম খরচে পশু বিক্রির সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনায় সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
এদিকে হাটের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও আইনি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে এমন একটি সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ মানুষ সবাই উপকৃত হন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

