গাইবান্ধা জেলার ৫টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন (সাঘাটা-ফুলছড়ি) উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৫ আসন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী প্রার্থী রয়েছেন ৮জন। জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আলম সরকার, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদ, সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মাদ আলী, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজেমুল ইসলাম প্রধান নয়ন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগ, সোনাতলা সরকারি নাজির আক্তার কলেজের সাবেক জিএস ময়নুল ইসলাম শামীম, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমানে সহকারী অ্যাটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল।
সভা-সমাবেশে ও গণসংযোগ করে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন তারা । হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। দলের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রেও বাড়িয়েছেন তৎপরতা। মনোনয়ন প্রার্থীরা এক অপরকে সহ্য না করা, সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও কাউন্সিলকে ঘিরে গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছড়িতে ব্যস্ত এ আসনের বিএনপি প্রার্থীরা। বিএনপির বর্তমান অবস্থা বিদ্যমান থাকলে এ সুযোগটি কাজে লাগাবে জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সাঘাটার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বাজিদনগরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছকে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন গণসংযোগে।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে দল বদল করে আওয়ামী লীগে এসে
এমপি নির্বাচিত হলে ডেপুটি স্পিকার হন মরহুম অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর ভোটারবিহীন
তিনটি তামাশার নির্বাচনে তিনি এমপি হন। ডেপুটি স্পিকার থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালে তার মৃত্যুর পর
উপনির্বাচন ও ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে এমপি হন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
সাঘাটা-ফুলছড়ি আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম রোস্তম আলী মোল্লা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান টুকু এলাকার ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তারা দুজনই মারা গেছেন। তার পর বিএনপি থেকে আর কেউ এমপি নির্বাচিত হতে পারেন নি। বরাবরই এ আসন থেকে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হয়েছে।
এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ালিউর রহমান রেজা, ১৯৭৯ সালে বিএনপির রোস্তম আলী মোল্লা, ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, ১৯৯৬ সালে বিএনপির বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান টুকু, ২০০১ সালে এইচএম এরশাদের সহধর্মিনী বেগম রওশন এরশাদ, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এমপি হন ফজলে রাব্বি মিয়া। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে তিনি জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। এ সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, ফুলছড়ির শিল্পপতি হাসান আলী। তিনি দুই উপজেলা বিএনপিকে এক বলয়ে এনে সুসংগঠিত করেছিলেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক
রহমান ঘোষিত ৩১ দফার প্রচারণা সহ কর্মী সভা-সমাবেশ ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আলম সরকার আমার দেশকে বলেন, দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থক সহ সাধারণ মানুষ আমাকে চায়। দলের মনোনীত হয়ে নির্বাচিত হলে দুই উপজেলার মানুষের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোহাম্মাদ আলী বলেন, আমি সবাইকে পাশে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে দুই উপজেলায় উন্নয়ন করবো ।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদ বলেন, মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে দুই উপজেলার মানুষের কষ্ট লাঘব করবো, উন্নয়নে কাজ করবো।
দল মনোনয়ন দিলে যদি নির্বাচিত হতে পারলে জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, অ্যাডভোকেট নাজেমুল ইসলাম নয়ন।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াও নানাভাবে গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন ময়নুল ইসলাম শামীম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোহাগ বলেন, মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করবো ।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান মনোনয়ন ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেবেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল বলেন, রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্যই। তাই মনোনয়ন পেলে তাদের উন্নয়নকেই বেশি প্রাধান্য দিবো।
তবে দল যাকেই মনোনয়ন দিবে, তার সাথেই কাজ করার কথা জানান বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সব প্রার্থী।
জামায়াতের একক প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হলে এ এলাকার মানুষের
কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা উন্নয়নে নিজেকে আত্মনিয়োগ করবো। গণ অধিকার পরিষদের পক্ষে এ আসনে গণসংযোগ করছেন গাইবান্ধা জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম। তিনি জানান আগামী নির্বাচনে তিনি এ আসনে প্রার্থী । তবে নতুন দল এনসিপির কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


পুতুল ইস্যুতে সব ক্ষমতাসীনদের শিক্ষা নিতে হবে: মারুফ কামাল