চট্টগ্রামের সিটি গেইট এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও এই ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- কফিল দাশ (১৮), অগ্নি দাশ (১৮), বিপু দাশ (৩২), রনি দাশ (২৫) ও প্রদীপ দাশ (২৪)। নিহতদের সবার বাড়ি একই এলাকায়। তাদের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত আরও চারজন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতরা প্রতিদিনই ভাটিয়ারি থেকে ফিশারিঘাটে মাছ কিনতে যান। এরপর মাছ নিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। সোমবারও তারা ভোর ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে পিকআপযোগে ফিশারিঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। চালকসহ দুজন সামনে বসেছিলেন, বাকিরা গাড়ির পেছনের খোলা অংশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সিটি গেইট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানকে পিকআপটি পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ফিশারিঘাটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ জোরে ধাক্কার শব্দ শুনি। গিয়ে দেখি পিকআপ ভ্যানটি পেছন দিক থেকে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে চেপে গেছে। কয়েকজন ছিটকে পড়ে আছে। চালক সম্ভবত ঘুমাচ্ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সকাল থেকে ভিড় করেন নিহতদের স্বজনরা। আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিহত বিপু দাশের আত্মীয় পলাশ দাশ নামে একজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাই প্রতিদিন মাছ নিয়ে আসতেন। ভোরে বের হয়েছিলেন, ফিরলেন লাশ হয়ে।
কফিল দাশ ও অগ্নি দাশ একই গ্রামের প্রতিবেশী। তাদের স্বজনরা হাসপাতালে এসে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। কফিলের মা বলেন, ভোরে বলে গিয়েছিল দুপুরে ফিরবে। এখন আমি কার মুখ চেয়ে বাঁচব?
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন বলেন, মাছ কিনতে যাওয়ার পথে ভাটিয়ারির নয়জন ব্যবসায়ী পিকআপে ছিলেন। কাভার্ডভ্যানে ধাক্কা লেগে পাঁচজন মারা গেছেন, আহত চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চালক ঘুমের ঘোরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তারা জানান, প্রতিদিনই এই সড়কে ভোরের দিকে অনেক ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে। বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতার জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
একই এলাকার পাঁচ তরুণের মৃত্যুর খবরে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এ লাকাজুড়ে চলছে কান্নার রোল। অনেকেই হাসপাতালের সামনে ছুটে আসেন প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার জন্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

