টানা অনাবৃষ্টির পর সপ্তাহের দুই দফা বৃষ্টিতে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে আমন ধানের মাঠে সজীবতা ফিরে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে জমির ফাটল বন্ধ হয়ে ধানগাছ দ্রুত বেড়ে উঠছে। এতে ধানের গুণগত মান ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।
এর আগে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার উঁচু জমির আমন খেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। কৃষকেরা ডোবা, বিল ও ডিজেলচালিত মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। মোহনগঞ্জের মাঘান-সিয়াদার, বরতলী-বানিয়াহারী, সমাজ-সহিলদেও, তেতুলিয়া, বড়কাশিয়া-বিরামপুর, গাগলাজুর ও সুয়াইর—এই ৭টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার মাঠে এখন কেবলই সবুজের সমারোহ। বিশেষ করে ব্রি-৩৯, ব্রি-৪৯, ব্রি-২২, ব্রি-৩৪, কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া জাতের ধানগাছগুলো বেশ সতেজ হয়ে উঠেছে। অনেক জমির ধান এখন কাইচ থোড় (গম ও ধানের শীষ বের হওয়ার আগের অবস্থা) পর্যায়ে রয়েছে।
খুরশিমুল গ্রামের কৃষক অসিত সরকার বলেন, “বৃষ্টির পর জমিতে প্রাণ ফিরেছে। ধানগাছ তরতর করে বড় হচ্ছে। আশা করছি, এবার ফলন ভালো হবে।”
উলুকান্দা গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, “বৃষ্টি হওয়ায় সেচের বাড়তি খরচ থেকে বেঁচে গেলাম। মাঠের চেহারা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে, দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নেত্রকোণা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সময়মতো এই বৃষ্টি আমন ধানের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জমিতে প্রয়োজনীয় রস জমেছে, যা ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও দানা গঠনে দারুণভাবে সহায়ক হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-7b7fe4-720x405.webp)