দীর্ঘদিনেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং সীমানা প্রাচীর না থাকায় অপরাধীদের দখলে রয়েছে এই শিল্পনগরী। এখানে প্রতিদিন বসে মাদকের আড্ডা । ভিড় জমে দেহ পসারিণীদের।
এছাড়াও অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো সংস্কারের অভাব, অবাধ গরু-ছাগলের বিচরণ, নোংরা ও জরাজীর্ণ বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে উঠছে নানা শিল্প কারখানা। এই শিল্পনগরীর ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েক যুগ ধরে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা।
সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনগুলোতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়, নেই ফায়ার সার্ভিসের ন্যূনতম সরঞ্জাম, বিসিকের প্রাণখালটি পানিশূন্য হয়ে মৃত্যু প্রায়। সবচেয়ে উদ্যোগের বিষয় সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের অবাধ চলাচলে বাড়ছে মাদকের আড্ডা, নেই জেনারেটর। বিদ্যুৎ চলে গেলেই অন্ধকার নেমে আসে এই বিসিক শিল্পনগরীতে।
শিল্প উদ্যোক্তারা জানায়, এসব অব্যবস্থাপনায় শিল্প স্থাপন চালু করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটগুলোতে যুগের পর যুগ ঝুলছে তালা ও সাইনবোর্ড। কিছু প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই কার্যত অচল অবস্থায়। নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
স্বরূপকাঠি বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা রিয়াজ উল হাসান বলেন, যে সমস্ত শিল্প ইউনিট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে সেগুলো দ্রুত চালু করার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে শিল্প উদ্যোক্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এসব ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং এসব সমস্যা সমাধানে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিংয়ে উত্থাপন করা হয়েছে। আশা রাখি বর্তমান অর্থবছরে এর অনেকটাই সমাধান হবে ।

