সবুজের সমারোহ, পাখির কলতান আর বনের ভেতর হঠাৎই জমে উঠলো হাসির রোল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বৃহস্পতিবার সকালে ধরা পড়লো এক বিরল ও মজার দৃশ্য। সেটি হচ্ছে চায়ের কাপ নিয়ে বসে আছে একটি বানর। মানুষের মতো করে কাপ ঠোঁটে তুলে চুমু দিচ্ছে। যা দেখে উপভোগ করছে পর্যটকরা।
ঘটনাটি সকাল প্রায় ৯টার দিকে। উদ্যানে বেড়াতে আসা ঢাকার এক পর্যটক পরিবার বিরতিতে বসে চা খাচ্ছিলেন। তাদের টেবিলে রাখা কাপটি সুযোগ বুঝে নিয়ে যায় এই লজ্জাবতী বানর।
চায়ের চুমুক দিতে থাকা বানরকে ঘিরে মুহূর্তেই ভিড় জমে যায়। কেউ কেউ ক্যামেরা আর মোবাইল ফোনে বন্দি করে রাখেন এই দৃশ্য। ঢাকার পর্যটক শাফিন আহমেদ বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম বানর কাপটা ফেলে দেবে কিন্তু সে এমনভাবে ধরে রাখল। মনে হচ্ছিল বনের ভেতরেও তার ‘চা টাইম’ চলছে।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. ফরিদা রহমান জানান, লাউয়াছড়ার বানররা পর্যটকদের কাছ থেকে খাবার নেওয়ার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে কিন্তু চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এমনভাবে পান করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তার মতে, এটা বানরের কৌতূহল ও অনুকরণ ক্ষমতার প্রমাণ। তারা মানুষের আচরণ নকল করতে পারে তবে এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান তার জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত এখানে আছে বিরল উল্লুক, কাঠবিড়ালি, নানা প্রজাতির পাখি ও গাছপালা। পর্যটকরা সাধারণত বনের নীরবতা, ট্রেইল হাইকিং ও পাখি দেখা উপভোগ করেন। কিন্তু আজকের ‘চা-প্রেমী বানর’ মুহূর্তটি দর্শনার্থীদের ভ্রমণকে যেনো আরও রঙিন করে তুলেছে।
বন বিভাগ কর্মকর্তারা পর্যটকদের অনুরোধ করেছেন, বন্যপ্রাণীর কাছে খাবার বা পানীয় পৌঁছাতে না দিতে। চা বা কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রাণির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যা তাদের প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে দেয়।
লাউয়াছড়ার সেই বানর হয়তো জানে না যে, তার এই কাণ্ড সে দিনের আলোতে রেখে গেছে এক অবিস্মরণীয় ছবি—যেখানে বনের গভীরে, সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝেই চলছে ‘চা-চক্র’।
স্থানীয় গাইড মানিক, শ্যামল বললেন, বানরদের মানুষের কাছাকাছি আসতে আমরা প্রায়ই দেখি। খাবার নিয়ে দৌড়ঝাঁপ তো ঘটে কিন্তু চা খাওয়ার মতো ঘটনা আমারও প্রথম দেখা।
প্রাণিবিদরা অবশ্য এই ঘটনায় মজা পেলেও সতর্কবার্তাও দিয়েছেন— মানুষের খাবার বা পানীয় বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান মানে তাকে সম্মান দেওয়া, দূর থেকে তার সৌন্দর্য উপভোগ করা।
চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া এই বানরের ছবি এখন লাউয়াছড়ার নতুন কাহিনি হয়ে উঠেছে। বনপ্রেমী ও পর্যটকরা একে দেখছেন এক বিরল হাসির মুহূর্ত হিসেবে আর প্রকৃতিবিদরা দেখছেন মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সম্পর্কের এক সূক্ষ্ম ইঙ্গিত— যে সম্পর্ক যত সুন্দর, ততই সচেতনতার দাবি রাখে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

