দীর্ঘদিন সংস্কার ও মেরামত না করায় কুমিল্লার শহর-সালদা-কসবা ও সৈয়দাবাদ সড়কটি এখন বেহাল। রাস্তার বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ এবং বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ভাঙা অংশে পানি জমে যানবাহন উল্টে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। ২৫ কিলোমিটারের এ সড়কের ১০ কিলোমিটারের অবস্থা বেশি খারাপ। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অন্তর্ভুক্ত হলেও আওয়ামী আমলে সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।
কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ বাজার, ঈদগাহ মোড় ও মোগলটুলী থেকে সিএনজিতে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিদিন যাতায়াত করে লাখো মানুষ। সড়কটিতে চলাচল করে পাঁচ-ছয় হাজার ছোট-বড় যানবাহন ।
সরেজমিন দেখা যায়, আদর্শ সদর উপজেলার নন্দির বাজার, জনতা বাজার, বাঁশমঙ্গল ও তেলকুপি; বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার, কালিকাপুর, আজ্ঞাপুর এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । এ কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের যুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
ফকির বাজার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালযয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সুশান্ত আমার দেশকে জানায়, প্রতিদিন এদিক দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করি । রাস্তায় পানি থাকার কারণে স্কুল ড্রেস ময়লা হয়ে যায় ।
এই সড়কে গত সাত বছর সিএনজি চালান মো. জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, বড় বড় গর্তের কারণে সিএনজির সামনে বসা যাত্রীরা মাঝেমধ্যে পড়ে যান। পেছনের যাত্রীরা গাড়ির রডের সঙ্গে আঘাত লেগে আহত হয় । সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। গাড়ি পাংচার হয়ে যায়।
গত ১০ বছর ধরে এই সড়কে সিএনজি চালান বাহার উদ্দিন। তীব্র ক্ষোভ নিয়ে তিনি আমার দেশকে বলেন, বারবার ভিডিও করে নিয়ে যান সাংবাদিকরা । কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । যত টাকা ভাড়া মারি, তার চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায় গাড়ি মেরামত করতে । প্রতিদিন গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্র নষ্ট হয়ে যায় । আমরা এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই ।
বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার এলাকার জামশেদ আলম জানান, ফকির বাজারের দুই কিলোমিটার এলাকায় এমন বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন গাড়ি আটকে যাচ্ছে, ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশার চাকা নষ্ট হচ্ছে এবং চালকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না ।
এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করেন আমার দেশ পাঠকমেলার কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মনির । তিনি জানান, এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। কয়েকজন সমাজসেবক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাস্তা মেরামত করেছেন। এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ আসেনি এ সড়কের জন্য। প্রশাসন এ সড়কের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। এ রাস্তা দিয়ে দুই জেলার মানুষ চলাচল করে । এটি গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অন্তর্ভুক্ত। টেন্ডার হয় শুনছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। রাস্তাটি মেরামত করা জরুরি।
গত সপ্তাহে সড়কটি নিজ উদ্যোগে মেরামত করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, বিবেকের তাড়নায় মানুষের দুর্ভোগ দেখে ৫০ ট্রাক ইট দিয়ে সড়কটি মেরামত করেছি। তারপরও সড়কটির বেহালদশা । কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কর্তৃপক্ষ সড়কটি টেন্ডার করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করবে বলে আশা করছি ।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন আমার দেশকে বলেন, এ সড়কের গোমতীপাড়ের চানপুর ব্রিজটি খুবই সরু। ফকির বাজার এবং কালিকাপুর বাজারের সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল । শুনেছি সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামতের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। দ্রুত মেরামত করা হলে দুর্ভোগ লাগব হবে ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির আমার দেশকে বলেন, কুমিল্লা-সালদা-কসবা ও সৈয়দাবাদ সড়কের ২৮ কিলোমিটারের কুমিল্লা অংশের মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ৬০-৭০ লাখ টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে । বাজেট পাস হলে কাজ শুরু করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

