আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নির্বাচনের আগেই হত্যার বিচার চান শহীদ সোহাগের বাবা

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)

নির্বাচনের আগেই হত্যার বিচার চান শহীদ সোহাগের বাবা

ঘরে ঘরে বিরাজ করছে ঈদের আনন্দ। কিন্তু এখনও শোকের ছায়া জুলাই বিপ্লবের শহীদ সোহাগের পরিবারে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ বীর সন্তানদের স্মৃতি নিয়ে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন তার বাবা-মা। ঈদের আনন্দ তাদের স্পর্শ করতে না পারায় তারা কেউ হাসতে পারছেন না।

শহীদ সোহাগের বাবা সালাউদ্দিন ফরাজি পেশায় একজন কৃষক। জুলাই আন্দোলনে বড় সন্তান সোহাগকে হারিয়ে এখন এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে বাস করে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে। শহীদ সোহাগকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া তারা। পরিবারের অভাব অনটন থাকায় লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকায় একটা কোম্পানিতে চাকরি করতেন সোহাগ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান অংশগ্রহণ করেন সোহাগ। ১৯ জুলাই শুক্রবার সাড়ে ১২টায় বাড্ডা বাঁশতলা এলাকায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুলিশের গুলিতে নিহত হন সোহাগ।

বিজ্ঞাপন
00

সোমবার ঈদের নামাজ শেষে নিজের ছেলের কবর জিয়ারত করে ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে গত ঈদে আমাদের সাথে ঈদের আনন্দ করেছে, তার বোনকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিয়েছে, আজ বাড়িতে পুকুর পাড়ে কবর শুয়ে আছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আগে তাদের বিচার করতে হবে, পরে নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের শহীদ হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। তারা এখনও খোঁজ খবর রাখছেন। অন্যকোন রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত কোন আর্থিক সহায়তা করেনি। আমাদের খোঁজেও নেননি। সরকারিভাবে ৫ লাখ টাকা পেয়েছি। তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি সহায়তা ও পাশাপাশি হত্যার বিচার আগে করতে অন্তবর্তী সরকারের কাছে জোড় দাবি জানান।

শহীদ সোহাগের বোন সোহনা বলেন, সোহাগ ভাইয়া গত ঈদে আমাকে নতুন জামা কিনে দিয়েছে, এবার নতুন জামা কিনে দেয়নি। আমার ফোনও ধরছে না। ভাইয়া অফিসে আছে। সোহনা জানে না, তার ভাই যে বেঁচে নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন