চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীমের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। এতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর বাঁশখালীর সাবেক এমপি ও তার সহযোগী চেয়ারম্যানদের রক্ষাকারী তথাকথিত বিএনপি নেতাদের আগামী সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন দেয়া হলে সরাসরি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক। সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা দেন।
এ সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী। ওই বৈঠকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বহুল আলোচিত মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ও চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন না।
মফিজুর রহমান আশিক বলেন, ১৯ জুলাই ২০২৩ সালে জেল থেকে বের হয়ে আমি এইচআরডব্লিউ এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মানবাধিকার কর্মী জুলিয়া ব্লেকনারের (Julia Bleckner) সাথে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গুম এবং গ্রেফতার নিয়ে কাজ করি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পেটুয়া বাহিনীর হামলার বিষয়ে এইচআরডব্লিউ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল তা ছিল আমার ডকুমেন্টেশনের ওপর ভিত্তি করে। ডামি নির্বাচনের ভোট কারচুপি এবং বাচ্চাদের দিয়ে ভোট প্রদানের ভিডিও আমি সরবরাহ করি ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টে কর্মরত সাংবাদিক মুশফিক ফজল আনসারীর কাছে।
তিনি আরো বলেন, ২৪ এর ডামি নির্বাচনের পর আমি থেমে যাইনি। ডামি নির্বাচনের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের কাজ আমি এবং কিছু মানবাধিকার কর্মী মিলে করেছি। আমি জুলাই বিপ্লবের সময় মাঠে লড়াই করে আহত হয়েছি, ছাত্র সমন্বয়কদের সহায়তা করেছি, ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে ইউএস অ্যাম্বাসির মানবাধিকার অফিসার, বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক মুশফিকের সাথে সম্পর্ক করে দেই এবং ৫ আগস্টের পরে ড. ইউনুসকে সরকার প্রধান করার জন্য আমি এবং মুশফিক ফজল আনসারী ছাত্র সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদকে প্রস্তাব দেই। আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আসিফ ড. ইউনুসকে সরকারপ্রধান করার জন্য রাজি হয়।
তিনি বলেন, আমি একজন জেন-জি যোদ্ধা। স্বৈরাচার পতনে আমি বাঁশখালী থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে একমাত্র ইতিহাসের অংশ, সরাসরি মাঠে আন্দোলন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, মিডিয়া কর্মীদের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের অবর্ণনীয় নির্যাতন ও গুম-খুনের ডকুমেন্টস এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ডকুমেন্টেশন সরবরাহ করি। আমি নিজেই এই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার অফার পেয়েও প্রত্যাখ্যান করি। শুধুমাত্র দলের প্রতি কমিটমেন্ট থেকে ইন্টারিম সরকারে যাইনি। আমার ত্যাগ, মেধা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করবে দল—এটাই আশা করি।
আশিক বলেন, আমি তরুণ, তারুণ্যনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে তারুণ্যের অগ্রাধিকার বেশি। আমি তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। আমার ত্যাগের মূল্যায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। যদি আমাকে না জানিয়ে আমার ত্যাগের মূল্যায়ন না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে আমি জেন-জির প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ বাঁশখালী থেকে এমপি পদে অংশগ্রহণ করব। তিনি উপস্থিত অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা সবাই মিলে উত্তর বাঁশখালী ইজম করতে চাচ্ছেন, এটা আমি কখনো মানব না। তাই দক্ষিণ বাঁশখালী অবহেলিত জনপদ। এই দক্ষিণ বাঁশখালীর প্রায় ছেলেপেলে ইউনিভার্সিটি, কলেজে ভালো ভালো জায়গায় পড়াশোনা করেন, তারা আমাকে বলেন—“আপনিই পারবেন এই অনুন্নত বাঁশখালীকে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দিতে।” আমি তারুণ্যের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে জীবন-যৌবন বিসর্জন দিয়ে সর্বশেষ নিজের যোগ্যতায় এতটুকু এসেছি। আমি তিনবার বিসিএস ভাইভা দিয়ে চাকরি পাইনি শুধুমাত্র ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম বলে। আপনারা কি চান আমার ত্যাগের মূল্যায়ন না হোক? কোটায় যদি মনোনয়ন হয় আমি মানব না—যে কোটার কারণে আজকে হাসিনা সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছে। আমার এই মেসেজ জনাব তারেক রহমানকে জানাবেন এবং আমি এ ব্যাপারে আমাদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলব।
তিনি বলেন, আমিই একমাত্র ব্যক্তি লোভ-লালসা ছাড়া, অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় না দিয়ে রাজনীতি করে আসছি। আপনারা জানেন, যারা বালি লুটের সাথে জড়িত, অবৈধ লুটপাট ও বেড়িবাঁধের কাজে বাধা দিয়ে চাঁদাবাজি করছে, মামলা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত, আওয়ামী লীগের আমলে লিয়াজোঁ করে চলেছিল , ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, ডামি এমপির কাছে নিজের অস্তিত্ব বিক্রি করেছে, তারা নাকি আজ মনোনয়নের দাবিদার! ২০১৮ সালে ২১ আগস্ট মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে বাঁশখালীর কালীপুরের চেয়ারম্যান শাহাদাত, খানখানাবাদের সাবেক চেয়ারম্যান বদরুল হক ও জসিম উদ্দিন হায়দার তারেক রহমানের ফাঁসি দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করে এবং খালেদা জিয়ার নামে কটুক্তি করেন। যারা আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না, যারা আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে একাকার, তাদের কাউকে মনোনয়ন দিলে আমি মানব না। অথচ কটুক্তিকারী সেই চেয়ারম্যানদের নামে কোনো মামলাও হয়নি—কিছু বিএনপি নেতার শেল্টারের কারণে। আজ যদি সেইসব নেতাদের এমপি নমিনেশন দেওয়া হয় আমি সেই মনোনয়ন মানব না।
তিনি দুঃখ করে বলেন, একজন আওয়ামী চেয়ারম্যান আছে, তার বাড়ি কিন্তু উত্তর বাঁশখালী— রহস্যজনকভাবে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করে না। সে এখনো বহাল তবিয়তে আছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা মিলে মিশে পশ্চিমের বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে ভাগাভাগি লুটপাট চালাচ্ছে—এসব দলের দুর্নাম ও দুঃখজনক। যারা ডামি এমপি মুজিবুর রহমান সিআইপিকে মামলার আসামি করতে দেয়নি তাদের কাউকে নমিনেশন দেয়া হলে কোনো ঐক্য হবে না এবং আমি তাকে মেনে নিব না।
সবশেষে আশিক বলেন, তারেক রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে নেতা নন, তিনিই একমাত্র বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা—জেল, জুলুম এবং অপপ্রচার সহ্য করে নেতা হয়েছেন। তিনি ত্যাগীদের বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেবেন এমন আশা করি না। বাংলাদেশের প্রাণ, আমাদের কান্ডারী, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবদিক বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমার নেতার সিদ্ধান্ত ফেলে তরুণ প্রজন্মের যোদ্ধা ও সংগ্রামী ভাইদের নিয়ে আমি নির্বাচন করবই ইনশাআল্লাহ। এটি আমার নিজের এবং এলাকার লোকজনের চাওয়া। ইনশাআল্লাহ আমাদের দল জিতবেই জিতবে। আমি এই চট্টগ্রাম-১৬ আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিব ইনশাআল্লাহ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

