বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে উপজেলার বাইশারী বাজারসংলগ্ন নূরানী ক্যাডেট মাদরাসার সামনে বরিশাল-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান মাস্টারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা দলটিতে যোগ দেন।
জামায়াতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার, বানারীপাড়া পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্ফার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি সিদ্দিক মল্লিক, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর তালুকদার, উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাঞ্চন তালুকদার, ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুজ্জামান, বিশারকান্দি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।
এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল-যুবদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর কাছ থেকে বঞ্চনার শিকার হয়ে এসব নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
বিএনপি নেতা মাহাবুব মাস্টারসহ অন্য নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগ দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সূত্র জানায়, মাহবুব মাস্টার স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা। মাহবুব মাস্টার এবং পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্ফার হোসেন গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দেন। বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর সঙ্গে মাহবুব মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ না পাওয়ায় মাহবুব মাস্টারের অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।
এছাড়া আসন্ন সংসদ নির্বাচনে একবারের জন্যও মাহাবুব মাস্টার ও তার অনুসারীদের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে বলা হয়নি। এ কারণে তারা দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে মাহবুব মাস্টার জানান, চার দশক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেও লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, দলে এখন টাকায় মনোনয়ন বিক্রি হয় এবং নেতাদের কাছে কর্মীরা প্রতারিত হচ্ছে। এ কারণে দলের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। মাহবুব মাস্টার আমার দেশকে জানান, তিনি দলের কাছে নিগৃহীত হয়েই শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর একটি উঠান বৈঠকে তিনিসহ নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগ দেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, নেতাদের পদত্যাগের কথা শুনেছি। মাহবুব মাস্টারের অভিমান ভাঙিয়ে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান আমার দেশকে বলেন, দলের নেতাদের সঙ্গে মান-অভিমানের কারণে তিনি হয়তো দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

