পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল, মামলার কাগজপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার তিনটি এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর আলিপুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আলিপুরা এলাকার সুলিজ বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে মৃধা বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ইব্রাহিম মৃধার বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দুই ভাই নুরু মৃধা ও ইউনুস মৃধার বসতঘরে। এতে তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর ও ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
আগুনের ভয়াবহতা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে তিনটি বসতঘর ও ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ইব্রাহিম মৃধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সম্বল বলতে ছিল এই ঘর আর কিছু জমিজমার দলিল ও মামলার কাগজপত্র। আজ আগুনে সব পুড়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। কীভাবে যে এমন ঘটনা ঘটে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, দশমিনা উপজেলার আলিপুরা ইউনিয়নের মৃধা বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা সংবাদকর্মীদের জানান, অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, নগদ টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারিয়ে পরিবার তিনটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-a63c61-720x405.webp)