ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খোজাখালি এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন নলছিটি-বরিশাল প্রধান আঞ্চলিক মহাসড়ক কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ড্রেজারের পাইপ বসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এসব পাইপ দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার তীরঘেঁষা এই মহাসড়কটি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খোজাখালি এলাকায় একাধিক বালুর খোলা রয়েছে। প্রায় প্রতিটি খোলাই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সড়কের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ বানিয়ে ড্রেজারের পাইপ টেনে নিয়েছে।
রোববার গভীর রাতে ‘বন্ধন ট্রেডার্স’ নামের একটি বালুর খোলা ওই সড়কের নিচে গভীর সুড়ঙ্গ করে নতুন করে আরেকটি ড্রেজার পাইপ বসায়। নদী সংলগ্ন ও জনগুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে দিনরাত ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়ক ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তানজীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুড়ঙ্গ তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বালু ব্যবসার পাশাপাশি একটি বেসরকারি ব্যাংকেও কর্মরত।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ আমরা শুনেছি। এটি আগে করা হয়েছে এবং রাস্তার অপর পাশের পানি নিষ্কাশনের জন্য করা হয়েছে বলে একটি তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসন বা সওজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, তা জানা নেই। তবে ওই পাইপ দিয়ে যদি বালু সরবরাহ করা হয়, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঝালকাঠি সওজ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল-আমীন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘আমাদের বিভাগ থেকে সড়ক খুঁড়ে পাইপ বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।’
নদীভাঙনকবলিত এলাকার একমাত্র প্রধান সড়কটি রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার পাইপ উচ্ছেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

