প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসছে বরিশাল নগরী

নিকুঞ্জ বালা পলাশ, বরিশাল

প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসছে বরিশাল নগরী

বরিশাল নগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও সাশ্রয়ী করতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরই মধ্যে নগরীতে নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রথম ধাপে এক লাখ গ্রাহকের পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ৫০ হাজার গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করা হবে। পাশাপাশি নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে পোস্টপেইড মিটারের পরিবর্তে প্রিপেইড মিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল ছাড়া কোনো গ্রাহককে পোস্টপেইড মিটার দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরের গ্রাহকদের পোস্টপেইড মিটার পর্যায়ক্রমে তুলে নিচ্ছে সরকার। প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে মাঠপর্যায়ে মিটার রিডার ও বিল প্রস্তুতকারীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া, বিল তৈরি ও বিতরণের জন্য বিপুল জনবল ও যাতায়াত ব্যয়ের প্রয়োজন হতো। ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে এখন সেই ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি শতভাগ অগ্রিম রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আর্থিক তারল্য সংকট কমেছে। বকেয়া বিল আদায়ে সরকারের যে বিপুল অর্থ ও আইনি ব্যয় হতো, তা এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ কারণে সরকার গ্রাহকদের কাছে প্রিপেইড মিটার পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিপেইড মিটার চালুর অন্যতম বড় সাফল্য হলো সিস্টেম লস বা বিদ্যুৎ চুরি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া। অবৈধ সংযোগ ও মিটার টেম্পারিংয়ের মতো নন-টেকনিক্যাল ক্ষতি রোধ হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুতের সঠিক মূল্য সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে। পাশাপাশি অগ্রিম রিচার্জের অভ্যাস গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করছে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়ক।

গ্রাহক ভোগান্তি ও অসন্তোষ কমাতে সরকার প্রিপেইড মিটারের মাসিক অতিরিক্ত চার্জ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরো জনবান্ধব করা হয়েছে বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের মতে, প্রিপেইড মিটারের অন্যতম সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া যায়। মিটারে থাকা ব্যালান্স দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ফলে মাস শেষে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল আসার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

আগের পোস্টপেইড ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ে বিল হাতে পাওয়া, মিটার রিডিং এবং বিলের পরিমাণ নিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। প্রিপেইড মিটারে সেই আশঙ্কা নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে রিচার্জ করার সুযোগ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিল পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। এতে সময় ও যাতায়াতের ঝামেলা কমে। এছাড়া ব্যালান্স কমে গেলে গ্রাহক আগে থেকেই তা জানতে পারেন।

ফলে অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, যারা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন, তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রিপেইড মিটারে যেমন ভৌতিক বিলের সুযোগ নেই, তেমনি বিল বকেয়া রাখারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল নগরীতে দেড় লাখ পোস্টপেইড মিটার রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এক লাখ পোস্টপেইড মিটার প্রিপেইড মিটারে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ৫০ হাজার পোস্টপেইড মিটারও প্রিপেইড মিটারে প্রতিস্থাপন করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন