পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সুবিদখালী কলেজ রোডসংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন অডিটোরিয়ামের কাজ প্রায় দুই যুগেও শেষ হয়নি। ছাদ ও বিম ঢালাইয়ের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। রোদ বৃষ্টিতে ভিজে কলম ও বিমের রড মরিচা ধরে গেছে। প্লাস্টার না করায় ইটের গাঁথনি নষ্ট হয়ে গেছে। পরগাছা লতাপাতা জন্মে ঝোপজঙ্গলে পরিণত হয়েছে । এতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে সুবিদখালী সরকারি কলেজ রোডসংলগ্ন এলাকায় একটি অত্যাধুনিক মানের অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মেসার্স মনিরুজ্জামান এন্টারপ্রাইজকে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় । নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৬৭ লাখ টাকা। ২০০৭ সালে সরকার পরিবর্তন ও প্রাক্কলনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যাবে কেন। অডিটোরিয়ামের বাকি কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, অডিটোরিয়ামের কাজ দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায়, নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান মনির বলেন, কাজটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সম্ভাব্য মূল্যায়নে দেখা যায়, পাথরের খোয়া দিয়ে ঢালাই রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দে টাকা পাওয়া গেছে ইটের খোয়ার ঢালাইয়ের । প্রাক্কলনজনিত ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করে তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই সরকারের পরিবর্তন হয়। এরপর আর কাজ করা সম্ভব হয়নি। আমার প্রায় জামানতের দেড় লাখ টাকা আটকে রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে অডিটোরিয়ামের পরিত্যক্ত ভবন পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

