একটু বৃষ্টি বা বাতাস হলেই নলছিটি পৌরসভাসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কখনো কখনো ৩-৪ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকা) নলছিটির আবাসিক প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, সমস্যার মূল কারণ রাস্তার পাশে থাকা বড় বড় গাছ। ঝড়-বৃষ্টিতে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। সরকারি নিয়ম অনুসারে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ৩ মিটারের বাইরের গাছ কাটার অনুমতি না থাকায় বড় গাছগুলো কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ছোটখাটো ঝড়েই ডালপালা ভেঙে বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘লোকবলের সংকটের কারণে দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় টিম পাঠাতে দেরি হয়।’
বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহ, ফ্রিজে রাখা ওষুধ ও জরুরি যন্ত্রপাতি চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এটিএম বুথগুলো বন্ধ থাকায় আর্থিক লেনদেনে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ অনেকেই অনলাইন কাজ করতে পারছেন না। মোবাইল নেটওয়ার্কও চলে যায়, ফলে জরুরি যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনকি বিদ্যুৎ-নির্ভর পানির পাম্প বন্ধ থাকায় খাবার পানি সংগ্রহেও পড়ছে চরম সমস্যা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নলছিটিতে একটু বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ১০-১২ ঘণ্টা তো সাধারণ ব্যাপার, অনেক সময় ৩-৪ দিনও লেগে যায়। আমরা কি অন্ধকারে বসে থাকবো সারাজীবন?’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত গাছ ছাঁটাইয়ের অনুমতি, লোকবল বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের লাইন আন্ডারগ্রাউন্ড করার দাবি জানিয়েছেন।
নলছিটির এই বিদ্যুৎ সংকট শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

