শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ১০০ দিন পূর্তিতে দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ। শনিবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ১০০ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “বিচারহীনতার ১০০তম দিন পার হলেও এখনো প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, কারা অর্থদাতা এবং মূল হোতা—সবকিছু এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছে। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং শহীদ হাদির জন্য প্রকৃত ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন আল তাওফিক লিখন, অন্দ্রিলা সরকার, আরিফ বিল্লাহ ও ফাহফুজ খান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জুমার নামাজ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।
তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২০ ডিসেম্বর তার লাশ দেশে আনা হলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকটে দাফন করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এবং তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সারাদেশে বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

