বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে কলেজ ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলায় শিবিরের মুলাদী উপজেলা শাখার সভাপতি হামিম হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ ইসলাম সৌরভ ও কলেজ সেক্রেটারি জাহিদ হোসেন মান্নাসহ সাতজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও মুলাদী থানা পুলিশ হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
শিবিরের মুলাদী কলেজ শাখা অর্থবিষয়ক সম্পাদক মুহিন হোসাইল আমার দেশকে বলেন, মুলাদী কলেজে এখনো শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চলছে। নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করার বিষয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা সকাল ১০টার দিকে কলেজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা কলেজ অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই ছাত্রদের সঙ্গে নবীনবরণের বিষয়ে আলাপ করছিলেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মহিউদ্দিন ঢালী সেক্রেটারি বেল্লাল সরদার ও পৌরসভা যুবদল সভাপতি রফিক ঢালির নেতৃত্বে ১৫-২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে অর্ধশতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তারা শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হামলায় অভিযুক্ত মুলাদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ঢালী আমার দেশকে বলেন, মুলাদী কলেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। বরং পৌরসভা ও উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবার কলেজে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। মূলত গত বুধবার সকালে কলেজের ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হলেও শিবির নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে শিবির নেতাকর্মীরা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে দাওয়াত না দেওয়ার কৈফিয়ত জানতে চান। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

