মহিষ মৃত্যুর অভিযোগ

রাঙ্গাবালীর বনায়নে খালে বাঁধ, বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার

রাঙ্গাবালীর বনায়নে খালে বাঁধ, বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সবুজ বনায়নে অবৈধভাবে খালে বাঁধ নির্মাণ ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে ছোট প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিষাক্ত পানি পান করে মহিষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর চারপাশ নদীবেষ্টিত। নদীর তীরে গড়ে ওঠা সবুজ বনায়নের ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট খাল, যেগুলো নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। জোয়ার-ভাটার পানির সঙ্গে এসব খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের দখল ও অনিয়মের কারণে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বনায়নের খালগুলোতে লিজের নামে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সাধারণ জেলেরা মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে বনের খাল ও চর দখল করে মাছ শিকার করা হচ্ছে।

চর মাদারবুনিয়ার বনে ১৯টি মহিষ পালন করেন মনজুর রহমান মৃধা। তিনি অভিযোগ করেন, বনের ছোট ছোট খালে বাঁধ দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে গত ২১ জুলাই রাতে জোয়ারের পানিতে আটকে পড়ে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা যায়। এ ছাড়া আরও তিনটি ছোট মহিষ নিখোঁজ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘বাঁধের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিষ প্রয়োগের কারণে মাছসহ অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে।’’

স্থানীয় জসিম মিয়া বলেন, বনের ভেতরের খালগুলোতে একটি প্রভাবশালী চক্র বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করছে। এতে খালে পানি আটকে গিয়ে মহিষের মৃত্যুসহ নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষ প্রয়োগের কারণে ছোট মাছ মারা যাচ্ছে এবং গাভীন মহিষেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন বলেন, সরকারি বনের গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বন বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে প্রভাবশালীরা এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, বনের খালে বাঁধ দিয়ে বিষ প্রয়োগ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও মহিষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাঁধ নির্মাণকারী ওহাব মাদবার বলেন, যে বাঁধে মহিষ মারা গেছে সেটি তিনি দেননি। অন্য একটি খালে তিনি বাঁধ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সুমন নামের একজন ওই বাঁধ দিয়েছেন।

বাগান লিজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার কাজীসহ কয়েকজন নেতার কাছ থেকে তারা বাগান নিয়েছেন।

এ বিষয়ে দেলোয়ার কাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সূত্রে পাওয়া একটি অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বাগান নেওয়া হয়েছে এবং কোনো লিখিত কাগজ দেওয়া হয়নি, মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তা ফজলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাগান কারও কাছে লিজ দেওয়া হয়নি। বনের মধ্যে যেসব বাঁধ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দুই-এক দিনের মধ্যে কেটে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাওন মজুমদার সুমন বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন, তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন