বিএনপি নেতা শুক্কুর আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

বিএনপি নেতা শুক্কুর আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

বরিশালের মুলাদীতে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. শুক্কুর আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি রহমত উল্লাহ ফরাজীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন বাবুবাজার এলাকা থেকে বরিশাল র‍্যাব-৮, র‍্যাব-১০ ও সিপিসি-১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল তাকে আটক করে।

বিজ্ঞাপন

নিহত মো. শুকুর আলী (৪২) বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চর ধলেশ্বর এলাকার বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গত বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

শুক্রবার দুপুরে বরিশাল র‍্যাব-৮ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

মুলাদী থানায় দায়ের করা মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত চলমান মৎস্য অভিযান চলাকালে জাটকা ইলিশ নিধন থেকে বিরত থাকা এবং কৃষ্ণপুর এলাকায় জুয়া খেলা নিষেধ করার কারণে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় মো. শুকুর আলী কৃষ্ণপুর এলাকার একটি দোকানে চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে মিরাজের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা এজহারনামীয় অভিযুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুলাদী থানাধীন কাজিরচর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রহমত উল্লাহ ফরাজীকে প্রধান আসামি করে মুলাদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত রহমত উল্লাহ ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

নিহতের বাবা ও মামলার বাদী আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বারেক ফরাজী (৩৬), মোজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে শুক্কুর আলীর ওপর হামলা চালান এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করেন। হামলার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথিমধ্যে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন