বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামে বাবার সামনে ভাইয়ের দুই চোখ তুলে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।
তিনি জানান, মুলাদী থানায় এ ঘটনায় আহতের বাবাসহ মোট আটজনকে আসামি করে মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ মাঠে নামে। গতকাল জেলার উজিরপুর উপজেলার মসাং গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে ১ নম্বর আসামি স্বপন বেপারীকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার স্বপন বেপারীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বরিশাল জেলার মুলাদীতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দুই ভাই লোকজন নিয়ে আরেক ভাই রিপন বেপারীর দুটি চোখ তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে গত বুধবার সকালে তা বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট রিপনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে স্বপন বেপারী, রোকন বেপারী, আর্শেদ বেপারীসহ আটজনকে আসামি করে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
এর আগে ২২ আগস্ট রাতে রিপনের মেজো ভাই রোকন বেপারী ও ছোট ভাই স্বপন বেপারী লোকজন নিয়ে তার দুই চোখ তুলে নেয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আহত রিপন বেপারী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আর্শেদ বেপারীর সেজো ছেলে।
আহত রিপন বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী বলেন, তার মেজো চাচা রোকন বেপারীর কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার গচ্ছিত রেখেছিলেন তার বাবা (রিপন)। এছাড়া জায়গা-জমি নিয়েও বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মেটাতে চাচারা তার বাবাকে খবর দিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে ডেকে নেন।
গত শুক্রবার বিকালে তার বাবা রিপন বেপারী বাড়িতে পৌঁছালে চাচাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। বিরোধ মেটাতে শনিবার সকালে এলাকায় সালিশ বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু রাতে তার দুই চাচা লোকজন নিয়ে রিপন বেপারীর চোখ তুলে নিয়েছেন।
শাহিন বলেন, চোখ তুলে নেওয়ার পরে স্থানীয় লোকজন রিপনকে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

