আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর

হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের জায়গা উদ্ধারে এমপির ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের জায়গা উদ্ধারে এমপির ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের উজিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে দখল করে নেওয়া একটি হিন্দু পরিবার ও শ্রীগুরু মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

মঙ্গলবার সকালে উজিরপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সুজা ও দলীয় নেতাকর্মীদের এ কড়া নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে গত সোমবার আমার দেশ-এ তৃতীয় পাতায় ‘বরিশালের উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখলের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, উজিরপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা বরুন মিত্র ২০১৯ সালে জনৈক শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে চার শতক জমি কিনে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনটির একাংশ ভাড়া দেওয়া হলেও বাকি অংশ মন্দিরের কাজে ব্যবহারের জন্য রেজুলেশন করে দান করেছিলেন তিনি। প্রতিবছর বার্ষিক কীর্তন উৎসবের সময় ওই বাড়ির অংশ ব্যবহার করে আসছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী বরুন মিত্র জানান, তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙ্গীনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান শেখ দলবল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়িটি জবরদখল করেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও নতুন বিতর্ক

পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নুরুজ্জামান শেখ কর্তৃক মন্দিরের গেটে সাঁটানো ‘খান বাড়ি’ লেখা টাইলস বা নামফলক অপসারণ করে উপজেলা প্রশাসন। তবে প্রশাসনের অগোচরে দখলদার ওই নামফলকটি পুনরায় মন্দিরের অফিস রুমে স্থাপন করেন, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।

দলীয় ও প্রশাসনিক অবস্থান

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘দখলদারদের কোনো ছাড় নেই। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সুরাহা হবে।’

বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন