আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক আসামি

উপজেলা প্রতিনিধি, লালমোহন (ভোলা)

আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক আসামি

ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় একদল লোক পুলিশের কাছ থেকে আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় মামলার বাদীপক্ষের দুই স্বজনকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

তবে পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে ছিনিয়ে নেওয়া এক আসামিসহ মব সৃষ্টির অভিযোগে আরও দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাতে উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১ জুন বিকেলে কলেজ শিক্ষার্থী সালমান (২০) লাঠিয়াল বাজার এলাকায় তার চাচা আনোয়ার মীরের বাসার সামনে ক্রিকেট খেলা দেখতে যান। এ সময় প্রতিবেশী ইমন জমাদার, জয়নাল জমাদার এবং তাদের সহযোগীরা তাকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সালমানের দুই হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠান।

এ ঘটনায় সালমানের বাবা বাদল হোসেন মীর বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার রাতে এসআই জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ ইমন জমাদারকে আটক করলে তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফয়সাল তালুকদার ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করেন। পরে তিনি ছিনিয়ে নেওয়া এক আসামি ও মব সৃষ্টির অভিযোগে আরও দুজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ফয়সাল তালুকদার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই এক আসামি ও মব সৃষ্টিকারী দুইজনকে থানায় হস্তান্তর করেছি। বাদীপক্ষের দুই স্বজনকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি পরে জেনেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, “কলেজ শিক্ষার্থীকে মারধরের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কিছুটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কারণে হামলাকারীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আসামিদের সহযোগীরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জনতা জড়ো করে আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...