বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পীযূষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮ হাজার ৭৯৯। এর মধ্যে কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে রয়েছেন ৭৬৫ জন জেলে।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সহায়তার জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি জেলেকে মাসে ৪০ কেজি হারে ফেব্রুয়ারি-মার্চ দুই মাসে ৪১৮ জন জেলের জন্য ৩৩ টন ৪৪০ কেজি এবং এপ্রিল-মে দুই মাসে একইসংখ্যক জেলের জন্য আরও ৩৩ টন ৪৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করেন কড়ইবাড়িয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু। পরে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আল-আমিনের উপস্থিতিতে ৭৬৫ জন জেলের মধ্যে ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। বাকি ৭১টি জেলে কার্ডের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৫ টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা বলেন, ‘কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে মোট ৭৬৫ জন জেলে রয়েছেন। দুই ধাপে ৮৩৬টি জেলে কার্ডের বিপরীতে ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান ৭৬৫ জনকে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করে বাকি ৭১ কার্ডের চাল আত্মসাৎ করেছেন। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, ‘আমি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এ কারণে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রতি জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছি।
এ বিষয়ে কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. খলিলুর রহমান বলেন, চাল বিতরণের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো মাস্টার রোল আমাকে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

