বন্যা-পাহাড়ি ঢলে সীতাকুণ্ডে মৎস্য খাতে কোটি টাকার ক্ষতি

বন্যা-পাহাড়ি ঢলে সীতাকুণ্ডে মৎস্য খাতে কোটি টাকার ক্ষতি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে দেড় শতাধিক পুকুরের বিপুল পরিমাণ চাষের মাছ ভেসে গেছে। এ কারণে চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর।

বিজ্ঞাপন

বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছেন না চাষিরা। বরং বন্যার পানির সঙ্গে পুকুরে ঢুকে পড়া ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানিতে অবশিষ্ট মাছও আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। ফলে একদিকে মাছ হারানোর ক্ষত, অন্যদিকে রোগবালাইয়ের নতুন আতঙ্ক—দুই সংকটে পড়েছেন সীতাকুণ্ডের মৎস্য চাষিরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে এখন বড় বাধা অর্থের সংকট। নতুন করে পোনা ছাড়া, মাছের খাদ্য কেনা এবং পুকুরের পানি শোধনের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সামর্থ্য অনেক চাষির নেই। এর মধ্যে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য এখনো কোনো বিশেষ সরকারি বরাদ্দ না আসায় ক্ষতিগ্রস্তদের পোনা, খাদ্য, চুন ও লবণ দিয়ে সহায়তা করতে পারছে না মৎস্য দপ্তর। ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে পরিদর্শন, মনিটরিং ও কারিগরি পরামর্শে।

মুরাদপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার মৎস্য চাষি মামুনের পাঁচটি পুকুরও বন্যায় ডুবে যায়। এতে বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর পুকুরে ময়লা ও দূষিত পানি ঢুকে অবশিষ্ট মাছও মারা যাচ্ছে।

মামুন আমার দেশকে বলেন, ‘বন্যার কারণে আমার পুকুরের মাছ চলে গেছে। বন্যার পরে পুকুরে ময়লা পানি ঢোকার কারণে বাকি মাছগুলো জীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছে। এখন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যাচ্ছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে অবশিষ্ট মাছ রক্ষায় পুকুরে মাইক্রোলিন, পটাশ, লবণ ও চুন ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ আমার দেশকে বলেন, বন্যায় দেড় শতাধিক পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চাষিদের এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মৎস্য চাষিদের জন্য বর্ষাকাল পিক সময়। এ সময় মাছ দ্রুত বড় হয়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রণোদনা দেওয়া হলে তারা সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম আমার দেশকে বলেন, সরকারিভাবে এখনো কোনো ধরনের বরাদ্দ আসেনি। তাই খামারি ও মৎস্য চাষিদের মাছের পোনা, চুন, লবণ ও মাছের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিটি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পুকুরের পানি জীবাণুমুক্ত করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চাষিদের ভাষ্য, বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ার সঙ্গে তাদের কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগও শেষ হয়েছে। এখন নিজেদের টাকায় পোনা, খাদ্য ও পানি শোধনের উপকরণ কেনার সামর্থ্য নেই অনেকের। দ্রুত সহায়তা না পেলে অবশিষ্ট মাছ রক্ষা এবং নতুন করে মাছ চাষ শুরু—দুটিই কঠিন হয়ে পড়বে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন