মেডিকেল ছুটি নিয়ে ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মোরশেদা বেগম বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ত্রপথি রাহা। দেশে ফিরে কর্মস্থলে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মুক্তি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রপথি রাহা গাইনি সমস্যা নিয়ে তিন মাসের ছুটিতে ছিলেন। ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করান তিনি। ছুটি শেষ হওয়ার ২০ দিন আগেই দেশে ফিরে গত ২২ জুন বিদ্যালয়ে যান। তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার কাছে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র চান। তার চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র প্রধান শিক্ষককে দেন ত্রপথি রাহা। সেই থেকে একের পর এক কাগজ চেয়ে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানে বিলম্ব করছেন প্রধান শিক্ষক।
গত বুধবার সকাল ১০টায় ত্রপথি রাহা বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে আবার তাকে বাধা দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। তখন বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমা আক্তার তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষককে অপমানিত করেন নাজমা। অপমান সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যান ত্রপথি রাহা । হাসপাতালে ভর্তি করার চার ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফেরে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন ।
ত্রপথি রাহা বলেন, ‘আমি সব নিয়ম মেনেই ছুটিতে যাই এবং ছুটি শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ে ফিরি। এরপরও আমাকে পাঠদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমার সঙ্গে এই অন্যায় আচরণের বিচার চাই।’
ত্রপথি রাহাকে অপদস্থ করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষক নাজমাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ বলেন, গত ১ জুন থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। আমি প্রধান শিক্ষককে বলেছিলাম যে ত্রপথি রাহাকে যোগদান করিয়ে দিই । কিন্তু তিনি বলেছেন ৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তিনি না বললে তো আমি কিছু করতে পারি না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে আছেন । আপনি স্কুলে গিয়ে কথা বলেন ।’
বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, ত্রপথি রাহাকে যোগদানে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ডা. জনি পাল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলব ।’
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির হোসেন বলেন, ‘কেন যোগদান করতে বাধা দিচ্ছে আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলব । আমি তদন্ত করে বিষয়টি দেখব ।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

