কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের বিভিন্ন ব্লকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে সাদ্দাম ডাকাত গ্রুপের সক্রিয় সদস্য, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি জিয়াউর রহমানকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১৬ রাউন্ড কার্তুজ ও ২২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ১৮ জন গ্রেপ্তার হন।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), জেলা পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসার, র্যাব, সিআইসি অফিস এবং টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ২৩০ সদস্যের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। ক্যাম্প এলাকায় অবস্থানরত অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি, অপহরণকারী, চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের মাঠসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন জিয়াউর রহমান। পরে অভিযানরত সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও ১৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে ২২ পিস ইয়াবাও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জিয়াউর রহমান নয়াপাড়া মোচনী রোহিঙ্গা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের বাসিন্দা আলী আহম্মদের ছেলে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে অপহরণের পর হত্যা, চাঁদাবাজিসহ মোট পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
অভিযানে জিয়াউর রহমান ছাড়াও পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং মাদক মামলার আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি নয়জনকে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনকল্যাণমূলক সশ্রম কাজে নিয়োজিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাস, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

