ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দনা সড়কটি ৪০ বছরেও সংস্কার করা হয়নি । এতে খানাখন্দে ভরা সড়কে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার প্রায় ২০০ পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সড়কটির এলজিইডি আইডি নম্বর ৪৩০৪১৫২১১। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। বর্ষায় কাদা জমে গেলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে কাদামাটির পথ পাড়ি দিতে হয় বলে জানান তারা।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, অসুস্থ রোগী ও বয়স্কদের চলাচলেও তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন নিয়ে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, ৪০ বছর ধরে এই রাস্তার স্থায়ী কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানাই।
আরেক বাসিন্দা মাইন উদ্দিন বলেন, এলজিইডির সড়ক হলেও এত বছরেও উন্নয়ন হয়নি। কয়েকশ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়।
চন্দনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কামাল হোসেন মুহুরী বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।
সড়কটির বিষয়ে কথা হয় চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আইয়ুবের সঙ্গে। ইমরান হোসেন জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য কয়েকবার মাপজোখ করে এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সড়কটি পাকাকরণে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইসলাম হোসেনের সঙ্গে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

