সিডিএ'র বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ভবন ভাঙার অভিযোগ, আতঙ্কে ৪৪ পরিবার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সিডিএ'র বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ভবন ভাঙার অভিযোগ, আতঙ্কে ৪৪ পরিবার

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমিতে নির্মিত ‘সাফ জাফর ভিলা’ নামে একটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ভাঙার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভবনটি ভাঙতে উদ্যত হচ্ছেন সংস্থাটির জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাফ জাফর ভিলায় বসবাস করছেন ৪৪টি ফ্ল্যাট মালিক পরিবার। ভবনটির পাশে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিজেদের মনগড়া পরিমাপে খালের জায়গা দাবি করে ভবনের বিরাট অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা থাকলেও তা দেখতে নারাজ সিডিএ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাফ জাফর ভিলার ফ্ল্যাট মালিকরা৷ তারা অভিযোগ করেন, ১২ তলা ভবনের পেছনের অংশে বিএস শিট অনুযায়ী খালের প্রকৃত প্রস্থ পশ্চিমে ৫১ ফিট ও পূর্বে ৪৮ ফিট। কিন্তু সিডিএ সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ৫৮ ফিট দাবি করে পশ্চিম দিকে ভবনের ৮ ফিট অংশ ভেঙে ফেলেছে। একইভাবে পূর্বদিকে ৬ ফিট অংশও ভেঙে ফেলা হয়েছে। কোন ধরনের অগ্রিম নোটিশ না দিয়েই অনেকটা আগ্রাসী হয়ে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে অনেকটা নির্দয়ভাবে অভিযানে চালাচ্ছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে প্লট ওনার্সের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হুমায়ন কবির চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, মোয়াজ্জেম হোসেন, কাদের নেওয়াজ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

হুমায়ুন কবিরের দাবি, ভবনটি খালের জায়গা দখল না করলেও তথ্য বিকৃতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জোর প্রয়োগ করে ৪৪টি পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, একটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি হওয়ায় এ ভাঙচুরের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও অবমাননা করা হয়েছে। ভাঙচুরের ফলে ৪৪টি পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নারী, শিশু, রোগী ও বয়স্করা মানবিক সংকটে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, অবিলম্বে ভাঙচুর বন্ধ, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪টি পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...