পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চারদিকে কোলাহল আর কোরবানির প্রস্তুতিতে মুখর প্রতিটি পরিবার। অথচ উৎসবের কোনো আলো নেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সায়মনের পরিবারে, নেই কোনো আয়োজন। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এক জীর্ণ ঘরে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে তুহিনকে নিয়ে চরম অবহেলা আর একাকিত্বে দিন কাটছে শহীদ সায়মনের মা রহিমা বেগমের।
বুধবার বিকেলে আমার দেশ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় সায়মনের মা রহিমা বেগমের। এ সময় অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে দীর্ঘ আক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।
শহীদ সায়মনের মা জানান, সায়মনের মৃত্যুর পর প্রথম প্রথম বহু মানুষ এসেছে সান্ত্বনা দিয়েছে, এসেছে নানা সাহায্য-সহযোগিতা নিয়েও। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে থিতিয়ে এসেছে মানুষের সেই আবেগ, ক্রমে ফিকে হয়ে গেছে সেই টান।
প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ঈদেও এক রাজনৈতিক নেতা কোরবানির জন্য একটি ছাগল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের ঈদুল আজহার আগের দিন পর্যন্ত সন্দ্বীপের এই প্রত্যন্ত প্রান্তের ঘরটিতে কেউ একটা ফোন করে কিংবা দরজায় কড়া নেড়ে জানতে চায়নি- কেমন আছে শহীদ সায়মনের মা? কেমন কাটছে প্রতিবন্ধী ভাইটির দিন?
সায়মনকে হারিয়ে এখনও শোকে বিহ্বল তার মা। তীব্র অভিমান আর চোখের জল চেপে সায়মনের মা রহিমা বেগম বলেন, দেশের জন্য আমার ছেলে জীবন দিয়েছে। আমি চাই দেশের মানুষ আমার একটু খোঁজ রাখুক। আমি টাকা-পয়সা চাই না। শুধু কেমন আছি- এটুকু এসে জিজ্ঞেস করুক।
অর্থের চেয়েও যে আজ পরিবারটির কাছে বড় হয়ে উঠেছে একটু সহানুভূতি, তা রহিমা বেগমের শূন্য চাউনি আর আক্ষেপেই স্পষ্ট। যে কিশোর নিজের সোনালী ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গেল, আজ তার পরিবারই উৎসবের দিনে অবহেলিত।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

