কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। বক্তারা রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দলীয় শৃঙ্খলা ও মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা রক্ষায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী তাকে কলার চেপে ধরে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন।
পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, ‘আপনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে সঠিক তথ্য নিয়ে প্রচার করেন। সাক্ষী বের করেন অথবা সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের বিষয়টি সাজানো নাটক।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, তার কার্যালয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে তার সামনে মারামারি বা শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে ওসির উপস্থিতিতে দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই বক্তব্য দেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, ‘সেখানে আমার কোনো লোকজন ছিলেন না। থাকলে তারা প্রতিবাদ করতেন। ইউএনও ও ওসি সাহেব বিষয়টি কখনোই স্বীকার করবেন না। তারা স্বীকার করলে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ হবেন, কারণ ঘটনাটি ইউএনওর কার্যালয়ে ঘটেছে।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

