চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গত ১১ জুলাই পুকুর থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে পানি থেকে লাশ উঠানোর সময় পুকুরপাড়ে একটি মোবাইল পায় পুলিশ। সেই মোবাইলের সূত্র ধরেই প্রথমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় মেলে, এরপর খুনিকে শনাক্ত ও আটক করে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকির রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রেসব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মৃতের নাম মো. হাবিব উল্লাহ। তিনি উপজেলার পুটিয়ারপাড় এলাকার মনোয়ারা বেগম মনুর স্বামী। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের লোকজনকে সংবাদ দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করে।
এরপরই পুলিশ খুনিকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে খুনির খোঁজ পান। পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুনি বরিশালের চরমোনাইর রাজারচর গ্রামের মৃত খালেক মীরা ও মৃত নুর জাহানের ছেলে মো. কামাল মীর (৫৫) আটক করে।
পুলিশ সুপার বলেন, আটক কামাল মীরকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে খুনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। এ সময় তিনি বলেন, মৃত হাবিব উল্লাহ সাথে তার ৩/৪ মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মদনপুর ইউনিয়নের মুরাদপুর এলাকায় চায়ের দোকানে আড্ডাস্থলে পরিচয় হয়। মৃত হাবিব উল্লাহ যাত্রাবাড়ী এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। ধৃত আসামি কামাল মীরা ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় একটি কারখানায় নৈশপ্রহরীর কাজ করেন।
আসামি কামাল মীরার ১ম স্ত্রী তার সংসার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সে ২য় বিবাহ করার জন্য মনস্থির করে। তখন মৃত হাবিব উল্লাহকে বলেন, তাকে ২য় বিবাহ করানোর মতো মেয়ে খুঁজে দিতে। সেই সুবাদে আনুমানিক ১ মাসে আগে মৃত হাবিব উল্লাহ তার কাছ থেকে নগদ ৬০০০ টাকা নেয় এবং গত ১০ জুলাই মৃত হাবিব উল্লাহ মতলব উত্তর থানাধীন তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় আসামি কামাল মীরাকে মেয়ে দেখানোর কথা বলে পুনরায় নগদ ৪০০০ টাকা নেয়। তারা উভয়ই বিকেলের দিকে মুরাদপুর এলাকা থেকে মতলব উত্তর থানা এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা করে সন্ধ্যার সময় প্রথমে শাহ্ সোলেমান লেংটার মাজারে আসে।
মাজারে অনেকটা সময় ঘুরাঘুরি করার পর আসামি কামাল মীরা মৃত হাবিব উল্লাহকে কখন মেয়ে দেখতে যাবে? এই কথা বলে তাগিদ দিলে হাবিব উল্লাহ আসামিকে নিয়ে রাত অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় গোপালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে আসে। সেখানে বসে আসামিকে উভয়ে গল্প করার সময় মৃত হাবিব উল্লাহ তাদের সাথে থাকা মোবাইল বন্ধ করে দেয়। উভয়ের মধ্যে পুকুরের পাকা সিঁড়ির উপর ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এই ধস্তাধস্তির ফলে তারা উভয়েই পাকা সিঁড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে মুখমণ্ডলসহ শরীরে জখম হয়। এক পর্যায়ে তারা উভয়েই পানিতে পড়ে যায়। আসামি কামাল মীরা হাবিবুল্লাহকে অতর্কিত তলপেটে ও অণ্ডকোশ বরাবর লাথি মারলে হাবিবুল্লা যখন একটু দুর্বল হয়ে যায়। তখন আসামি কামাল মীরা হাবিবুল্লাহকে পানিতে ডুবিয়ে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন কদমতলী নামক এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়।
রোববার বিকেলে খুনি কামাল মিরকে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

