চকরিয়া পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এখানে দীর্ঘদিনেও গড়ে উঠেনি ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ডাম্পিং স্টেশন। ফলে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে এই উপজেলা সদরের পরিবেশ ময়লা-আবর্জনা পচে-মজে দূষিত হয়ে পড়ছে। হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্যে। লোকজন নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন ।
জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চকরিয়া পৌরসভা। বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে রূপান্তর হলেও বাড়েনি নাগরিকসেবা। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৩১ বছরেও স্থায়ীভাবে গড়ে উঠেনি ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ডাম্পিং স্টেশন। পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়েও নেই ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ডাস্টবিন। ফলে পৌর সদরে বসবাসরত বাসিন্দাদের বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পৌর সদরের নিউ মার্কেট, ওয়াপদা রোড, সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক এবং মহিলা কলেজ সড়কের যত্রতত্র এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আর এসব আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। ফলে এ সড়ক সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তির শিক্ষার হচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পৌরবাসী ও পথচারীরা। তারপরও পৌর কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে স্থায়ী কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
চকরিয়া পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা ও পৌর সদরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে পৌরকর পরিশোধ করা হলেও তারা পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, চকরিয়া পুরাতন বিমান বন্দর সড়কের সোসাইটি এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্কেটে গড়ে তোলা কাঁচাবাজারের ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সড়কের ওপর। আর এসব ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় সর্বত্র। এ কারণে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থী ও ওই সড়ক দিয়ে চলাচলরত পথচারীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
পৌর সদরে চলাচলরত সাধারণ পথচারীদের অভিযোগ, প্রধান সড়কের নিউ মার্কেট, সুপার মার্কেট ও আনোয়ার শপিংয়ের সামনে বেশিরভাগ সময়ই ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে এ ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন সড়ক দিয়ে চলাচলরত স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, ওয়াপদা সড়ক ও কোরক বিদ্যাপীঠ সড়কেরও একই অবস্থা। ওইসব সড়কে স্থায়ী কোনো ডাস্টবিন না থাকায়, যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য। এসবের দুর্গন্ধও ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। এ কারণে এসব সড়ক দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হয় মুখে রোমাল চেপে।
এ ব্যাপারে জানতে চকরিয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী ডাক্তার লোকমানের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায়, তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

