চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার মাঠে নামার অপেক্ষায় দিন গুনছেন আট হাজার লবণচাষি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহে মাঠে নামবেন লবণচাষিরা।চলতি বছরে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার ১০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা, পেকুয়া ও পটিয়ার ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে আট হাজার লবণচাষি। বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া, খানখানাবাদ (আংশিক) ও পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা এবং পটিয়ায় লবণ উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এসব এলাকায় শীতের শুরুতেই লবণ উৎপাদন শুরু হয়।
যেখানে হাজার হাজার কৃষক আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন । এই অঞ্চলে লবণ উৎপাদন শুধু বাণিজ্যিকভাবে হয়, যা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে এবং এই প্রক্রিয়ায় বিসিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করায় উৎপাদন প্রায় আড়াইগুণ বৃদ্ধি হয়।
কাকডাকা ভোরেই কৃষকরা লবণ মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যদিও কখনো কখনো বৈরী আবহাওয়া তাদের কাজে বাধা দেয়। গন্ডামারা ইউনিয়নের লবণচাষি ফজল আহমদ জানান, গত বছর তারা বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছিলেন। কিন্তু উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এখন বিদেশি লবণ আমদানি হলে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হবে।
লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীন বলেন, কাগজপত্রে ঘাটতি দেখানো হলেও আসলে ঘাটতি নেই, চাষির লবণ মাঠেই পড়ে আছে। অবৈধ পথে কিংবা নামেবেনামে লবণ ঠিকই আসছে। আমরা লবণচাষিরা শেষ হয়ে যাচ্ছি।
বিসিক কক্সবাজার লবণশিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে লবণ উৎপাদন হয় কম। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে লবণ আমদানির সরকারি এই সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ লবণের বাজার মূল্য ৩৪০ টাকা।
গত বছর ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় ৯ হাজার ৯৬৫ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। চাষির সংখ্যা ছিল সাত হাজার ৭৪০ জন। তবে চলতি বছরে জমি ও চাষির সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, হালনাগাদ অনুযায়ী মাঠে প্রায় চার লাখ টন লবণ মজুত রয়েছে। দেশে প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় আড়াই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

