ফেনীতে ছেলের বিরুদ্ধে কবুতর চুরির অভিযোগ এনে মাকে নাকে খত দেয়ানোর ঘটনায় সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির (সদ্য বহিষ্কৃত) সভাপতি।
বৃহস্পতিবার নিজ ইউনিয়নের বিজয় সিংহ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত বুধবার দেলোয়ার হোসেন দেলুকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ রিসাল, মাইনুদ্দিন বেনু, গিয়াস উদ্দিন, মাইনুদ্দিন সোহাগ, মোহাম্মদ আজাদ, অনিক, সামসুর রহমান লাভু, ইব্রাহিম খলিল, বাইট্টা নেজাম, মাইনুদ্দিন জাসিম ও সোহেল।
তারা সবাই ওই একই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে রাতে ওই ইউনিয়নের মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামে সালিশি বৈঠকে সাজেদা বেগম ও জোহরা বেগম নামে দুই নারীকে তাদের ছেলেদের চুরির অভিযোগে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। সেখানে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু লাঠি দিয়ে সাজেদা বেগমের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
গত ৪ মে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ‘দৈনিক আমার দেশ' ডিজিটালসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
এরপর অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দেলুকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয় ফেনী সদর উপজেলা বিএনপি।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী ওই নারীর করা মামলায় গত বুধবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে দেলুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

