কক্সবাজারে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও টিকিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে অন্তত এক হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। দুইটি মামলার একটিতে বাদী হয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রাজিব দাশ এবং অন্যটির বাদী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দিন।
সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন নিজেই। তিনি জানান, টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও টিকিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। তিনি বাদী হয়েছেন একটি মামলার।
মামলায় টিকিটের ইজারাদার ইব্রাহিম বাবু ও শাফায়াত হোসাইন মুন্নার নাম উল্লেখ করে ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়।
অপরদিকে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলায় ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান।
ইতঃপূর্বে শনিবার দুপুরে কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। এ সময় পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গণপূর্তকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গতকালের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার বিবরণ দিতে।
তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে খুব সুনামের সাথে বেশকিছু ম্যাচ সমাপ্ত হয়েছে। কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ সুপার মো. সাইফুদ্দীন শাহীন জানান, লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে খেলায়। হঠাৎ এমন একটি ঘটনা সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত ছিল না পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যরা ছিলেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এতকিছুর পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধৈর্যের সাথে ঘটনা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় উসকানিদাতা, সুবিধাবাদীদের ভিডিও ফুটেজ শনাক্ত করে সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি টিকিট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ সুপার সাইফুদ্দীন শাহীন আরও জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত শেষে জানা যাবে কারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উচ্ছৃঙ্খল দর্শকদের তাণ্ডবে পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় ও গ্যালারীতে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ অর্ধশত লোক আহত হন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

