মিরসরাইয়ে চার স্টেশনই বন্ধ, নেই আন্তঃনগর সেবা

মিরসরাইয়ে চার স্টেশনই বন্ধ, নেই আন্তঃনগর সেবা
মিরসরাই রেলওয়ে স্টেশন

দেশের বৃহৎ জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। বাড়ছে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন। প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের যাতায়াত । অথচ মিরসরাইয়ের বুক চিরে দীর্ঘ রেললাইন চলে গেলেও আন্তঃনগর কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই, পাঁচটি স্টেশনের চারটিই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। দুপাশে কুমিরা ও ফেনী স্টেশনে ট্রেন থামলেও চরম বৈষম্যের শিকার মিরসরাই।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলায় চিনকি আস্তানা, নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মস্তাননগর—এই পাঁচটি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে চিনকি আস্তানা চালু থাকলেও বাকি চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

চিনকি আস্তানা স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে এ স্টেশনে কেবল দুটি লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতি আছে, আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো যাত্রাবিরতি নেই। প্রায় দুই দশক আগেও স্টেশনগুলো জমজমাট ছিল। ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে স্টেশনগুলো অচল ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বহু সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে এবং পরিত্যক্ত ভবনগুলো মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দীন জানান, বর্তমানে মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম যেতে বাসভাড়া ১৩০–১৫০ টাকা এবং ঢাকায় যেতে ৭০০–১৭০০ টাকা লাগে। অথচ রেলে এই ভাড়া চট্টগ্রাম ৩০ টাকা ও ঢাকায় ৭৫ টাকার মতো হতে পারে। সকালে ও বিকেলে লোকাল বা ‘মিরসরাই কমিউটার’ ট্রেন চালু করলে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে মানুষের চাপ জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে শিল্পায়ন দ্রুত এগোচ্ছে। বেপজার তথ্য মতে, সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে গেছে, যেখানে চার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৪৮টি প্রতিষ্ঠান জমি ইজারা নিয়েছে, যেখানে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ও ১ লাখ ৪৯ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া বেজা কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ বছরে ১৭টি দেশি-বিদেশি কারখানা চালু হয়েছে, ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন এবং আরও ২৪টি কারখানা নির্মাণাধীন। শিল্পাঞ্চলে কাজ করতে আসা প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মকর্তা ও শ্রমিকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাবেক কনসালটেন্ট আবদুল কাদের ও ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিনও সহজ পণ্য পরিবহন ও শ্রমিক যাতায়াতে দ্রুত কার্যকর রেলস্টেশন চালুর দাবি জানান।

আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও পর্যটনে সম্ভাবনা খৈয়াছড়া, রূপসী, সহস্রধারা ঝরনা, মহামায়া লেক ও আরশিনগর ফিউচার পার্কের কারণে মিরসরাই সারা দেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। পর্যটনশিল্প ও স্থানীয়দের সুবিধার্থে বিজয় এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পর্বত, সোনার বাংলা ও পর্যটক এক্সপ্রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আন্তঃনগর রেলের ন্যূনতম যাত্রাবিরতি না থাকা দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, এখানে দেশের অর্থনীতির এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। পর্যটন ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে অবিলম্বে বন্ধ রেলস্টেশনগুলো চালু করা এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী বলেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ভৌগোলিক কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কেন আন্তঃনগর ট্রেনসেবা নেই, তা আশা করি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...