ফেনীতে বিএনপি-ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে ৭/৮ জনের একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনার থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে বলে গেছে। ফলে চাঁদাবাজদের হুমকি ধমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে জেলার সোনাগাজী বগাদানা ইউনিয়নের আড়কাইম গ্রামের ওই প্রবাসীর পরিবার।
বাদিপক্ষের অভিযোগ আসামিদের থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাগাজী থানার এএসআই তসলিম উদ্দিন। বিষয়টি ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানকে অবহিত করলে তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে বর্তমানে এসআই বজলুকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
সোনাগাজী মডেল থানা দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন প্রকাশ সবুজ পাটোয়ারি, শাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাগর পাটোয়ারি ও আবু তাহেরসহ সন্ত্রাসীরা গত কয়েকদিন ধরে নাজমা আকতার নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই প্রবাসীর কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া ৩ মেয়েকে ধর্ষণ এবং অপহরণের হুমকি দিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা।
সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শবে বরাতের রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৭/৮ জনের একদল সন্ত্রাসী ওই প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরের দরজায় কয়েকবার ধাক্কা দিয়ে না খোলায় পরে লাথি মেরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীরা।
নাজমা আক্তার জানান, এসময় ঘরে তিনি ও তার ৩ মেয়ে ছিলেন। সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকেই নাজমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে।এছাড়া তাকে টানা হেঁচড়া করে অপহরণের উদ্দেশ্যে সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করে।
এসময় তাঁর শোর চিৎকারে বড় মেয়ে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা তাকেও টানা হেঁচড়া শুরু করে।
একে একে নাজমা ও তার ৩ মেয়েকে সন্ত্রাসীরা অপহরণের উদ্দেশ্যে সিএনজিতে তোলার জন্য টানা হেঁচড়া করে।
এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা নাজমা ও বড় মেয়ের শ্লীলতাহানি করে তাদের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে আসছে দেখে সন্ত্রাসীরা এক সপ্তাহের মধ্যে চাঁদা না দিলে আবার এসে সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলবে হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
নাজমা আক্তার এসময় অভিযুক্ত সবুজ পাটোয়ারি নিজেকে জেলা বিএনপি নেতা ও সাগর পাটোয়ারি নিজেকে জেলা ছাত্রদলের নেতা দাবি করেছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ও জেলা বিএনপির কেউই সবুজ পাটোয়ারীকে চিনেন না উল্লেখ করে বলেন, জেলা নেতা তো দূরের কথা এ নামে কোন ওয়ার্ড নেতাও নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতা জানান, শুনেছি, ওরা প্রবাসে ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর দেশে ফিরে এসে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে তারা ৩ জনেই এলাকায় মাদক ও ইয়াবা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। দিন রাত মদ খেয়ে মাতলামি করতেও অনেকে তাদের দেখেছে।
এছাড়া তাদের রয়েছে সংঘবদ্ধ বাহিনী। এলাকায় কারণে অকারণে মানুষের সাথে ঝামেলা বাঁধিয়ে চাঁদা আদায় করাই তাদের মূল পেশা। দলীয় কোন পদ পদবিতে না থেকেও ধলিয়ায় দলের ব্যানারে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে এ চক্রটি।স্থানীয়দের দাবি এ সন্ত্রাসী চক্রের অত্যাচারে এলাকার নিরীহ মানুষরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সাগর পাটোয়ারীর বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন জানান, সে কোনো পদ পদবিতে নেই। হয়ত ছাত্রদল সমর্থন করতে পারে।
সবুজ পাটোয়ারীর বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার ফোরকান জানান, সবুজকে তিনি চিনেন। তবে সে বিএনপির কোনো পদবিতে নেই।
সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুর রহমান প্রবাসীর স্ত্রী কর্তৃক থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে মামলা তদন্তের জন্য ওই এলাকার বিট অফিসার এসআই বজলুকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

