আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অভিযানে সীতাকুণ্ডে ইউএনও ফখরুল

তেল মজুদ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেই কঠোর ব্যবস্থা

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

তেল মজুদ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেই কঠোর ব্যবস্থা

সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের মধ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও তথ্য গোপন করে তেল মজুদের অভিযোগে সীতাকুণ্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গণপরিবহনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশন নামক একটি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে তেলের মজুদ সংক্রান্ত সরকারি তথ্য গোপন ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট আইনে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ট্যাংকে ১ হাজার ১০০ লিটার অকটেন মজুদের তথ্য প্রদান করলেও বাস্তবে পরিমাপ করে অতিরিক্ত ১ হাজার ৬৯ লিটার অকটেন পাওয়া যায়। বিষয়টি গোপন করার পাশাপাশি সঠিক তথ্য দিতে গড়িমসি করায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়েছে।

ইউএনও ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, উপজেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে যেন অবৈধভাবে তেল মজুদ বা পাচার করতে না পারে, সেজন্য একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। বেশিরভাগ পাম্পের হিসাব সঠিক থাকলেও ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অলংকার-সীতাকুণ্ড রুটে চলাচলকারী মিনি বাসসহ তিনটি বাসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি বাসকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযান চলাকালে যাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও চালকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাত ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: