শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধের একপাশে চলছে ব্লক ফেলার কাজ, অন্যপাশে দেখা দিয়েছে ধস। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বেড়িবাঁধ। যেকোনো মুহূর্তে লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে জোয়ারের পানি। টানা বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীতে জোয়ারের পানি বাড়ায় আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে শঙ্খ নদীর এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় পুরোপুরি ভেঙে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি ও শঙ্খ নদীর জোয়ারের পানির প্রবল চাপে উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝির ঘাট এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বাঁধের দুই-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে জুঁইদণ্ডীর ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২.৪ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাঝির ঘাটের ভাঙন এলাকা সার্ভে করে ডিপিপি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। আপাতত ওই এলাকায় জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙন ঠোকানোর চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের জানান, গত ২০ বছরে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন ভাঙতে ভাঙতে ছোট হয়ে আসছে। এলাকার শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এবার যেভাবে ফাটল ধরেছে, আমরা এখন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছি না। জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধের ভাঙনে বেশকিছু অংশ শঙ্খ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে মাঝির ঘাট এলাকার বিশাল অংশের বাঁধে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরে দ্রুত জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধের ফাটল রোধের পরিকল্পনা নিয়েছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

