চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর 'হটস্পট' ঘোষণার পর বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষে হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার কিছুটা কমেছে। গত সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তা কমে ১০ দশমিক ৭৯ জনে নেমে এসেছে। রোগী ভর্তির এই নিম্নমুখী প্রবণতায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে নতুন করে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানান, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তখন দৈনিক গড় ভর্তি ছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। অন্যদিকে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ২০৫ জন, যেখানে দৈনিক গড় ১০ দশমিক ৭৯ জন। অর্থাৎ দুই সময়ের হিসাবে হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক গড় প্রায় তিনজন কমেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফখরুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং বাসিন্দাদের মাঝ থেকেও আতঙ্ক দূর হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ হলেও ঝুঁকি এড়াতে পৌর এলাকায় আবারও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ফগার ও স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে।”
গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় পুরো সীতাকুণ্ডকে 'হটস্পট' ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে উপজেলায় ৫১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য জানানো হয়। পরিস্থিতি সামলাতে সাতটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা, ড্রেন, ডোবা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে লার্ভিসাইড প্রয়োগের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক ও যুব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক মাইকিং চালানো হয়।
চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তনয় মজুমদার বর্তমানে সুস্থ। তিনি বলেন, আগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কলেজ রোড ও লোকনাথ মন্দির এলাকার মতো স্থানগুলোতে এখন নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে না।
তবে কেবল হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমাকে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখতে নারাজ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত কমার হার ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ হলেও বেসরকারি ল্যাব ও হাসপাতালের তথ্যে এই হার ৮ শতাংশ। তবে উভয় পরিসংখ্যানের সময়সীমা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি রোগী কমলেও এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে প্রজননস্থল ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, উঠান, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পেতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন ওষুধের স্প্রেরে পাশাপাশি আক্রান্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ ও রেড জোনগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-c58505-720x405.webp)