কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নুরপুর এলাকায় সরকারি বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে এবং ফসলি জমি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে রাস্তা তৈরির অভিযোগ উঠেছে এক আবাসন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করতে সরকারি রাস্তার পাশের গাছপালা কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরপুর এলাকায় ধানের জমিতে মাটি ভরাট করে ‘মুসাফির হাউজ-২’ নামে ১৭.২৬ শতক জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভবন নির্মাণাধীন ভূমিতে প্রবেশের নিজস্ব কোনো রাস্তা না থাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (হাউজিং এস্টেট) হাইকোর্ট কলোনির সরকারি বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। সরকারি ৪ নম্বর সেকশনের হাইকোর্ট কলোনিসংলগ্ন রাস্তার সঙ্গে ‘মুসাফির হাউজ-২’-এর সংযোগ ঘটাতেই মূলত এই কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট আবাসন সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, দেয়ালটি ভেঙে ফেলার পর রাস্তার সংযোগমুখে থাকা সরকারি হাউজিং এস্টেটের একাধিক ফলদ (আমগাছ) ও বনজ গাছ কেটে ফেলে চলাচলের পথ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে এই চক্র। এ ঘটনার মূল নেপথ্যে রয়েছেন ওই আবাসন প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী মো. মাইনুদ্দিন, নাসির উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ও মনির হোসেন।
সরকারি দেয়াল ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে মাইনুদ্দিন দাবি করেন, দেয়ালটি আমাদের জায়গায় তৈরি। গত বছর আমরাই এটি করেছিলাম। এখান দিয়ে চলাচলের রাস্তা করার জন্যই দেয়ালটি ভাঙা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেয়াল ভাঙার স্থানে কাজ করা অবস্থায় পাওয়া যায় সাইফুল ইসলামকে। তিনি বলেন, এই দেয়ালটি আমরাই ভেঙেছি, কারণ এদিক দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হবে।
তবে ব্যবসায়ীদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন দীর্ঘদিনের স্থানীয় বাসিন্দারা। নুরপুরের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে সরকার এই বাউন্ডারি দেয়ালটি নির্মাণ করেছিল। কতিপয় ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে সরকারি দেয়ালটি ভেঙে ফেলেছেন।
হাইকোর্ট কলোনির বাসিন্দা ইসহাক মিয়া জানান, আগে এই অংশে কোনো সরকারি রাস্তা বা যাতায়াতের পথ ছিল না।
হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম ও আব্দুর রউফ জানান, জমিটি জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নূরপুর সীমানায় অবস্থিত। সীমানা দেয়াল ভাঙায় বর্তমানে রাস্তাটি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং দিনরাত মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ ঘটছে। একই সঙ্গে সড়কের মুখের ঐতিহ্যবাহী গাছগুলো কাটার পাঁয়তারা চলছে।
বাসিন্দা নজরুল ইসলাম আরও বলেন, কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে এই ভেঙে ফেলা দেয়াল ও রাস্তার মুখটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেয়, তবে এখানকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

