কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় গৃহকর্তা ও তার দুই ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। গ্রামবাসীর বাধার মুখে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত আব্দুল মজিদকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দুল বশরের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা এ সময় ২০-২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ সওদাগরসহ তার কলেজপড়ুয়া দুই ছেলে—হুমায়ুন রশিদ ও হারুনুর রশিদকে ঘর থেকে টানাহেঁচড়া করে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ সওদাগর জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে সন্ত্রাসী দলের নেতা সৈয়দুল বশর তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালানো হয়। ঈদের আগে থেকেই আমাকে নিয়মিত চাঁদার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা না দেওয়ায় তারা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেদের অপহরণের চেষ্টা করে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি ঘটনাটি জানার পরপরই খোঁজ নিয়েছি। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

