ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর দর্জি দোকানগুলোতে বাড়ছে ব্যস্ততা। প্রতিদিন আসছে নতুন নতুন পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার। ঈদের পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শার্ট-প্যান্টসহ নানা ধরনের পোশাক তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি ও কারিগররা। নগরীর বিভিন্ন টেইলার্সে ইতোমধ্যে ভিড় জমে উঠেছে।
কুমিল্লা নগরীর খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে দর্জি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। প্রতিদিন প্রতিটি দোকানে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা এবং ৪০ থেকে ৫০ পাঞ্জাবি, প্যান্ট-শার্ট ও ব্লেজারের অর্ডার পাচ্ছেন দর্জিরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, অর্ডারের সংখ্যাও তত বাড়ছে বলে জানান তারা। তবে কিছু দোকানে এখনো আশানুরূপ অর্ডার না আসায় হতাশার মধ্যে সময় পার করছেন অনেক কারিগর।
ঈদ উপলক্ষে বাজারে অন্যান্য পোশাকের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেলাই খরচও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশির ভাগ দোকানে প্রতি পোশাকের সেলাই খরচ আগের তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন দর্জিপাড়ার কারিগররা। অর্ডার পেলে শুরু হচ্ছে কাপড়কাটা ও সেলাইয়ের কাজ। বিশেষ করে থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবি তৈরির কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে।
খন্দকার হক শপিংমল ও সাত্তার খান শপিংমলের বিভিন্ন দোকানে পাঞ্জাবি সেলাই করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। শার্ট সেলাইয়ের খরচ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্যান্ট সেলাই ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। ব্লেজার সেট সেলাই করতে লাগছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। থ্রি-পিস সেলাইয়ের জন্য নেওয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ডাবল থ্রি-পিস সেলাইয়ের খরচ ৮০০ থেকে সাড়ে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। কিছু দোকানে এ খরচ ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকাও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া লেহেঙ্গা সেলাইয়ের খরচ পড়ছে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।
দর্জিরা জানান, বর্তমানে বাজারে রেডিমেড পোশাকের আধিপত্য বেড়ে যাওয়ায় দর্জিপাড়ার আগের সেই ব্যস্ততা অনেকটাই কমে গেছে। তবুও নিজের পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করতে অনেকে এখনো কাপড় কিনে দর্জি দোকানে আসেন।
খন্দকার হক শপিংমলের কিছু দর্জির অভিযোগ, কাপড়ের দোকান ও নির্দিষ্ট কিছু টেইলার্সের মধ্যে চুক্তির কারণে অনেক সময় তারা অর্ডার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মীরা অনেক ক্রেতাকে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ টেইলার্সে পাঠিয়ে দেন। ফলে ১৬ রমজান পেরিয়ে গেলেও অনেক দোকানে এখনো অর্ডারের ঘাটতি রয়েছে। এতে কারিগরদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকা থেকে থ্রি-পিস সেলাই করতে আসা ক্রেতা মোর্শেদা আক্তার বলেন, ‘আমরা সেলাইয়ের দাম নয়, বরং কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দেই। অনেক দোকানে সেলাই ভালো হয় না, ফলে পোশাক বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। তবে সেলাই ভালো হলে ঈদ উপলক্ষে ১০০ বা ২০০ টাকা বেশি দিতে কোনো সমস্যা নেই।’
গণি ভূইয়া ম্যানশন গলির সামিনা লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন জানান, তাদের দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ অর্ডার আসে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্ডার কিছুটা বেশি পাচ্ছি।
ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর খন্দকার হক শপিংমল, সাত্তার খান শপিংমলসহ আশপাশের মার্কেটগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। অন্যান্য ব্যবসার মতো দর্জিপাড়াতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ব্যস্ততা। কাপড়কাটার পর মেশিনে উঠছে রঙিন সব কাপড়, যা সেলাই শেষে নতুন ডিজাইনের পোশাক হয়ে পৌঁছাবে ক্রেতাদের হাতে। দর্জিদের প্রত্যাশা, ঈদকে ঘিরে আবার ফিরে আসবে তাদের পেশার পুরোনো সেই প্রাণচাঞ্চল্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

