এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ, চট্টগ্রামে সবুজ ফিরিয়ে আনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ, চট্টগ্রামে সবুজ ফিরিয়ে আনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রকৃতির সবুজ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি শেষ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

বিজ্ঞাপন

‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ স্লোগানে এ উদ্যোগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী, বন বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

নগরীর জামেয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট ডিসি পার্কে শেষ চারা—একটি নারিকেলগাছ—রোপণের মধ্য দিয়ে।

ডিসি পার্কে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে গাছ কাটতে হলেও তার চেয়ে বেশি গাছ লাগাতে হবে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি দেশের অন্য জেলা প্রশাসকদেরও নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের একা নয়, এর জন্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মানুষ জীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব, বাড়ি ও জমিজমার হিসাব রাখলেও জীবনে কয়টি গাছ লাগিয়েছেন, সেটির হিসাব সচরাচর রাখেন না। অথচ গাছ প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনধারণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই প্রত্যেকেরই নিয়মিত গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং লাগানো প্রতিটি চারার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারি কোনো অর্থ ব্যয় না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সহকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না বলেও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জাতীয় পর্যায়ে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। রোপণ করা চারার সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠন, বেড়া দেওয়া এবং উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গ্রাম পুলিশ ও বন বিভাগের সহযোগিতায় নিয়মিত তদারকির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নষ্ট বা দুর্বল চারাগুলোর পরিবর্তে নতুন চারা লাগানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডা. মো. জিয়া উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরিফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বিসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন